ঢাকার মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের প্যারিস রোডে অবস্থিত ছয় তলা বিশিষ্ট নিউ ডিএনসিসি মার্কেট দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়রা ভবনটিকে ভয়ঙ্কর ও ‘ভূতুড়ে মার্কেট’ হিসেবে উল্লেখ করেন। রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা হলেও অসমাপ্ত কংক্রিটের কাঠামো অন্ধকারে জনমানসকে আতঙ্কিত করছে।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, মার্কেটের নিচতলায় প্রতিনিয়ত মাদকসেবী, জুয়াখেলোয়াড় ও ছিনতাইকারী জমায়েত হয়। ভাঙা দেয়াল, খসে পড়া পলেস্তারা ও শ্যাওলার স্তর ভবনটিকে ভয়াবহ রূপ দিয়েছে। এছাড়া ভেতরে ছড়িয়ে থাকা ফেনসিডিলের বোতল, পশ্চিম পাশে দখলকৃত ছোট বস্তি, এবং নিচতলায় রাখা রিকশা ও ভ্যান সব মিলিয়ে দুর্গন্ধ ও অন্ধকার পরিবেশকে আরও ভয়ঙ্কর করছে।
সম্প্রতি এখানে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার হওয়ার ঘটনা নগর ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা নতুন করে সামনে এনেছে। পুলিশ জানিয়েছে, গত ৫ বছরে এই মার্কেট থেকে অন্তত ৮টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর জাহান বলেন, “১৬ জানুয়ারি রাতে সুমন নামে এক ব্যক্তির লাশ মার্কেটের নিচতলা থেকে উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহে মাথায় জখমের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আমরা সিটি করপোরেশনকে দ্রুত মার্কেট চালু করার জন্য চিঠি পাঠাব।”
মার্কেটটি ১৯৯৬ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ২,৩৬৩টি দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে সরকারের পরিবর্তন, মেয়র বদল এবং সিটি করপোরেশন বিভাজনের কারণে কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খালেক এন্টারপ্রাইজও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়।
নিচের টেবিলে মার্কেট সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| মার্কেটের নাম | নিউ ডিএনসিসি মার্কেট |
| অবস্থান | প্যারিস রোড, মিরপুর ১১, ঢাকা |
| তলার সংখ্যা | ৬ তলা |
| জমির আকার | ২ একর |
| নির্মাণকাল | ১৯৯৬ থেকে শুরু |
| ব্যয় | প্রায় ২৫ কোটি টাকা |
| বরাদ্দকৃত দোকান | ২,৩৬৩টি |
| উদ্ধারকৃত লাশ | গত ৫ বছরে ৮টি |
| বর্তমান অবস্থা | পরিত্যক্ত, অপরাধ ও মাদকাচ্ছন্ন কেন্দ্র |
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মার্কেট নির্মাণ না হওয়ায় এটি অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মাদকসেবী, জুয়াখেলোয়াড় ও ছিনতাইকারীরা নেশা ও অপরাধ পরিকল্পনার জন্য ভবনটি ব্যবহার করছে।
নগরবাসী এবং ব্যবসায়ী উভয়ই আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। মার্কেট পুনরায় চালু ও নিরাপদ করা হলে শহরের প্রাণকেন্দ্রে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে।
