ভুলবশত বিষপান, প্রাণ গেল গৃহবধূর

ফরিদপুরে অসুস্থতার ওষুধ ভেবে ঘাসনাশক বিষ পান করার মর্মান্তিক ঘটনায় ফাতেমা বেগম (৬০) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং অসাবধানতাজনিত বিষক্রিয়া নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফাতেমা বেগম ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশানগোপালপুর ইউনিয়নের হাজীডাঙ্গী এলাকার চরদুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ব্রেন স্ট্রোকজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন এবং নিয়মিত ওষুধ সেবন করতেন। বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে নিজ বসতঘরে রাখা একটি বোতল থেকে তিনি ভুলবশত ঘাসনাশক বিষ পান করেন, যা তিনি তার নিয়মিত ওষুধ ভেবে গ্রহণ করেছিলেন।

বিষপানের পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পান এবং দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু হয়। তবে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও পরদিন সকালে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলে ধারণা করা হলেও, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মৃতার স্বামী মো. আলেফ শেখ জানান, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় প্রায়ই ওষুধ খেতেন। অসাবধানতাবশত ঘরে রাখা ঘাসনাশক বিষকে ওষুধ ভেবে পান করায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি আরও বলেন, পরিবারের কেউ বুঝে ওঠার আগেই পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠে।

এ ধরনের দুর্ঘটনা বিশেষজ্ঞদের মতে গ্রামীণ এলাকায় সচেতনতার অভাব, ওষুধ ও রাসায়নিক পদার্থ একই স্থানে সংরক্ষণ এবং লেবেলিংয়ের ঘাটতির কারণে প্রায়ই ঘটে থাকে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ঘরে ব্যবহৃত ওষুধ ও বিষাক্ত রাসায়নিক আলাদা ও নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ, পরিষ্কারভাবে চিহ্নিতকরণ এবং পরিবারের সদস্যদের সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

নিচে ঘটনাটির সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো:

বিষয়বিবরণ
মৃতের নামফাতেমা বেগম (৬০)
ঠিকানাচরদুর্গাপুর, ফরিদপুর সদর
ঘটনার তারিখ১ এপ্রিল
মৃত্যুর তারিখ২ এপ্রিল, সকাল ৯:৩০
ঘটনার কারণভুলবশত ঘাসনাশক বিষ পান
চিকিৎসা স্থানফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল
আইনগত অবস্থাপ্রক্রিয়াধীন

এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘরে বিষাক্ত পদার্থ সংরক্ষণে সতর্কতা ও সচেতনতার গুরুত্ব আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামান্য অসাবধানতাই বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে, যা প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।