ভিক্টোরিয়ার জানুয়ারি আগুনে ব্যাপক ক্ষতি

জার্মানির জুরিখভিত্তিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় বীমা তথ্য সংস্থা PERILS জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ৭ থেকে ১৩ জানুয়ারির মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ায় ঘটে যাওয়া বনাঞ্চল আগুনে প্রায় A$786 মিলিয়ন (US$559 মিলিয়ন) ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এই তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত বীমাকারীদের সরবরাহকৃত ডেটার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। PERILS-এর অস্ট্রেলিয়ার কাভারেজ সংজ্ঞা অনুযায়ী, এই হিসাবটিতে সম্পত্তি (Property) এবং মোটর হুল (Motor Hull) বীমা লাইন অন্তর্ভুক্ত। সংস্থাটি ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আপডেটেড ক্ষতি অনুমান প্রকাশের পরিকল্পনা করছে।

ভিক্টোরিয়ার এই আগুনের ঘটনা ২০০৯ সালের Black Saturday বিপর্যয়ের পর থেকে সবচেয়ে বিধ্বংসী বনাঞ্চল আগুন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তীব্র তাপপ্রবাহ এবং শুষ্ক ঘাসভূমির কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে প্রায় ৪০০,০০০ হেক্টর এলাকা দগ্ধ হয়, মূলত গ্রামীণ অঞ্চলে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে একজনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বাড়ি, পশুপালন, ফসল, ও অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

PERILS-এর প্রোডাক্ট ম্যানেজার Luzi Hitz মন্তব্য করেছেন, “ভিক্টোরিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুটি বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে – ২০১৯/২০ সালের Black Summer এবং ২০০৯ সালের Black Saturday, যেখানে ১৭৩ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এবার মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কম হয়েছে কারণ আগুন তুলনামূলকভাবে কম জনবহুল এলাকায় আঘাত হেনেছে। সময়মতো জরুরি অবস্থা ঘোষণা, প্রাথমিক সরানো, এবং ব্যাপক দমকল কর্মকাণ্ড অনেক জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছে।”

নিম্নলিখিত টেবিলে ২০২৬ সালের জানুয়ারির আগুনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ উপস্থাপন করা হলো:

উপাদানবিবরণ
আগুনের তারিখ৭–১৩ জানুয়ারি ২০২৬
প্রভাবিত এলাকাপ্রায় ৪০০,০০০ হেক্টর (মূলত গ্রামীণ অঞ্চল)
মোট ক্ষতিA$786 মিলিয়ন (US$559 মিলিয়ন)
প্রাণহানি১ জন
প্রভাবিত বীমা লাইনসম্পত্তি, মোটর হুল
পূর্ববর্তী বড় অগ্নিকাণ্ডBlack Saturday ২০০৯, Black Summer ২০১৯/২০

PERILS প্রতি বছর অগ্নিকাণ্ড, বন্যা এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বীমা ক্ষতির নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ করে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অস্ট্রেলিয়ায় এই ধরনের বিধ্বংসী আগুনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে।

ভিক্টোরিয়ার প্রশাসন ইতিমধ্যেই পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের কার্যক্রম শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিষ্কার করা, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নেয়া এবং পুনর্নির্মাণে বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণও পুনর্নির্মাণ কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। এছাড়া, প্রশাসন আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা উন্নতকরণ এবং বন সংরক্ষণ নীতি প্রয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যাতে ভবিষ্যতে আগুনের প্রভাব কমানো যায়।

ভিক্টোরিয়ার জানুয়ারির এই আগুনের ঘটনা ইতিহাসে এক নতুন চরম ক্ষতির অধ্যায় হিসেবে নথিভুক্ত হলো, যেখানে দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং সমন্বিত ত্রাণ কার্যক্রম অনেক জীবন বাঁচাতে সহায়ক হয়েছে।