ভালুকা স্পিনিং মিল অগ্নিকাণ্ডে সাত কোটি ক্ষয়

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় রোববার রাতে নিশিন্দা এলাকার বাশার স্পিনিং মিলের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় সাত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ১০:৪৫ থেকে ১১টার মধ্যে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে কারখানার মেশিনারিজে আগুন লেগে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করে।

কারখানার ব্যবস্থাপক জিএম স্বপন আহমেদ জানান, কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি, তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক সংযোগের ত্রুটির কারণে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। মিলটিতে মোট ৬৩০ জন শ্রমিক কাজ করেন। অগ্নিকাণ্ডের ফলে উৎপাদিত পণ্য, মেশিনারিজ, এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে কারখানাটি অস্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আতিকুর রহমান জানান, রাত ১১টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে ৭টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী কারখানা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করেন এবং ভবিষ্যতে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেন।

অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক তথ্য ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত নিম্নের টেবিলে তুলে ধরা হলো:

বিষয়বিবরণ
কারখানার নামবাশার স্পিনিং মিল, নিশিন্দা, ভালুকা
আগুনের সময়১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রাত ১০:৪৫–১১টা
শ্রমিক সংখ্যা৬৩০ জন
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণপ্রায় ৭ কোটি টাকা
ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদউৎপাদিত পণ্য, মেশিনারিজ, সরঞ্জামাদি
ফায়ার সার্ভিস ইউনিট৭টি ইউনিট, আড়াই ঘণ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণ
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাপূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী (উপপরিচালক ভারপ্রাপ্ত)

স্থানীয়রা জানান, আগুন ও ধোঁয়ার তীব্রতা এত ভয়াবহ ছিল যে আশেপাশের এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। অনেকেই কারখানার শ্রমিক এবং আশপাশের মানুষদের সতর্ক থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে কারখানায় বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থার যথাযথ তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

অগ্নিকাণ্ডের ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মিলটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শ্রমিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। তাই ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব শুধুমাত্র কারখানার উৎপাদন সীমাবদ্ধ না থেকে আশপাশের ব্যবসা ও শ্রমিকদের জীবিকাতেও প্রভাব ফেলবে।

মোটরশিল্প, বস্ত্র এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ওপর এই অগ্নিকাণ্ডের প্রভাব পরবর্তী কয়েকদিনে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কারখানার পুনঃস্থাপনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রস্তুতি শুরু করেছে।

এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণ, শ্রমিক এবং কারখানা কর্তৃপক্ষকে একযোগে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় এড়ানো যায়।