ভারতের কেরালা রাজ্যের সবরিমালা মন্দিরে দেবমূর্তির সোনার আবরণ খুলে নেওয়ার অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়েছে। হাইকোর্ট জানিয়েছে, মন্দিরের কয়েকটি মূর্তি থেকে সোনার প্রলেপ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা ভক্তদের মধ্যে চরম হতবাক তৈরি করেছে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবরিমালায় ভক্তদের দেওয়া সোনা–রূপা দিয়ে দেবমূর্তি ও অলঙ্কার সাজানোর প্রচলন বহু পুরোনো। তাই এই সোনাচুরি ঘটনাকে ‘বিশ্বাসভঙ্গ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কেরালা হাইকোর্ট ইতোমধ্যে বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করেছে। সাবেক সহকারী পুরোহিত উন্নিকৃষ্ণন পট্টিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিচারপতি রাজা বিজয়ারাঘবন ভি ও বিচারপতি কে.ভি. জয়কুমার তদন্ত তদারকি করছেন।
তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু দুটি দ্বারপালক মূর্তি। আদালত নিযুক্ত বিশেষ কমিশনারের প্রতিবেদনে দেখা যায়, এসব মূর্তির বহু স্থানে সোনার আবরণ নেই। নথি বলছে, শিল্পপতি বিজয় মাল্যর অনুদানে পাওয়া ৩০.২৯১ কেজি সোনায় ১৯৯৮–৯৯ সালে মন্দিরের মূর্তি, স্তম্ভ ও অলঙ্করণে সোনার প্রলেপ দেওয়া হয়।
২০১৯ সালে ত্রিবাঙ্কুর দেবস্বম বোর্ডের অনুমতিতে উন্নিকৃষ্ণন পট্টিকে মূর্তিগুলো বাইরে নিয়ে গিয়ে নতুন করে সোনার আবরণ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়। দুই মাস পর এগুলো ফিরলেও সেগুলোর ওজন মাপা হয়নি। পরে তদন্তে দেখা যায়, প্রায় ৪.৫৪ কেজি সোনা গায়েব।
হাইকোর্ট ঘটনাটিকে “লুটপাট ও ডাকাতি” বলে মন্তব্য করেছে। উন্নিকৃষ্ণন পট্টি গ্রেপ্তারের সময় দাবি করেন, তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। এসআইটি আরও দুই বোর্ড কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তের আওতায় আছেন বোর্ডের সভাপতি পি.এস. প্রসান্তও।
আদালত জানায়, মেরামতের পর পট্টি ৪৭৪.৯ গ্রাম সোনা নিজের কাছে রেখেছিলেন এবং ই-মেইলে ওই সোনা এক পরিচিত মেয়ের বিয়েতে ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিলেন—যা আদালতের মতে “উদ্বেগজনক”।
হাইকোর্ট জানিয়েছে, প্রভাব বা পদমর্যাদা যাই হোক, জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মামলার পরবর্তী শুনানি বুধবার হবে।
টিএসএন
