মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ প্রায় বন্ধ থাকায় ভারতে আটকা পড়ে ছিলেন ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা। ক্রিকেট মহলে অনেকটা ‘বন্দিদশা’-র মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে অবশেষে সেই উৎকণ্ঠার মেঘ কাটছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) বিশেষ চার্টার্ড বিমানের ব্যবস্থা করে এই তিন দলকে ভারত ত্যাগের সুযোগ দিয়েছে।
ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সেমিফাইনালে ভারতের কাছে পরাজিত হওয়া ইংল্যান্ড দল শনিবার সন্ধ্যায় মুম্বাই থেকে সরাসরি লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দেবে। কলকাতায় অবস্থান করা দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলরা রোববার ভিন্ন একটি চার্টার্ড বিমানে কলকাতা ত্যাগ করবে।
দলের গন্তব্য এবং পরিকল্পনা
| দল | গন্তব্য | বিশেষ নোট |
|---|---|---|
| ইংল্যান্ড | লন্ডন, যুক্তরাজ্য | সেমিফাইনাল পর সরাসরি প্রস্থান |
| দক্ষিণ আফ্রিকা | বিভিন্ন (News Zealand/দক্ষিণ আফ্রিকা) | কেশব মহারাজ, জেসন স্মিথ ও জর্জ লিন্ডেস নিউজিল্যান্ডে ১৫ মার্চ শুরু হওয়া টি–টুয়েন্টি সিরিজে খেলবেন |
| ওয়েস্ট ইন্ডিজ | প্রথমে জোহানেসবার্গ, তারপর অ্যান্টিগা | সুপার এইটে পরাজয়ের পর ভারত থেকে রওনা; প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি “ডে সিক্স” হিসেবে অবস্থান পোস্ট করেছেন |
টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার পর কলকাতাতেই অবস্থান করছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ মার্চ নিউজিল্যান্ডের কাছে সেমিফাইনাল হারে বিদায় নেয়, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ মার্চ ভারতের কাছে সুপার এইট পরাজয়ের পর প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়ে। বিশেষ চার্টার্ড বিমানের ব্যবস্থা না হলে এই দলগুলোর জন্য ভারত ত্যাগ করা আরও জটিল হয়ে উঠত।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি আজ তাঁর সামাজিক মাধ্যমে “ডে সিক্স” শিরোনামে পোস্ট করেছেন, যা দলটি ভারতে ষষ্ঠ দিন কাটাচ্ছে তা বোঝাচ্ছে। একই সমস্যায় পড়েছিল জিম্বাবুয়ে দলও; যদিও তাদের শেষ ম্যাচ ১ মার্চ শেষ হয়ে গেছে, দলের একটি অংশ ভারত ছাড়তে পেরেছিল গত বুধবার।
ক্রিকেটবিশ্বে এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক সফরের নিরাপত্তা ও লজিস্টিকের গুরুত্ব আবারও浮রে এসেছে। আইসিসি বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্রিকেটারদের নিরাপদ প্রস্থান নিশ্চিত করায় আন্তর্জাতিক খেলা তদারকির ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।
ভারতে আটকা থাকা ক্রিকেটাররা অবশেষে নিজ নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছেন, যা খেলোয়াড় ও ভক্তদের জন্য বিশাল রিলিফ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সম্প্রদায়ের জন্য এটিও একটি শিক্ষা যে রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতের সময়ে খেলোয়াড়দের সুরক্ষা এবং সময়ে দেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
এই পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট যে, বৈশ্বিক উত্তেজনার সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এবং অন্যান্য ক্রীড়া কার্যক্রমও প্রভাবিত হতে পারে, তাই এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থাপনা অত্যাবশ্যক।
সম্ভবপরিমাণে, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা আজ নিরাপদে ভারতে থেকে প্রস্থান করতে পারছেন, এবং ক্রিকেট বিশ্ব ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।
