ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল উত্তেজনায় উত্তাল। বাংলাদেশ সময় আজ সন্ধ্যা ৭.৩০ মিনিটে ভারত ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। দুই দলের সেরা ফাস্ট বোলারদের ব্যবহারই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি হতে পারে। একদিকে রয়েছেন জফরা আর্চার, অন্যদিকে যশপ্রীত বুমরা।
ফাস্ট বোলিং পরিসংখ্যান
| বোলার | ম্যাচ | উইকেট | পাওয়ারপ্লে উইকেট | ইকোনমি রেট | ডট বল | লক্ষ্য |
|---|---|---|---|---|---|---|
| জফরা আর্চার | 7 | 10 | 5 | 7.60 | 66 | পাওয়ারপ্লে ওপেনার লক্ষ্য |
| যশপ্রীত বুমরা | 7 | 9 | 1 | 6.30 | 58 | বিপদের সময় উইকেট নেওয়া |
আর্চারের শক্তি মূলত পাওয়ারপ্লেতে। এ পর্যন্ত ৭ ম্যাচে প্রথম ৬ ওভারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উইকেট তিনি নিয়েছেন। প্রতি ম্যাচে প্রায় তিন ওভার করে পাওয়ারপ্লেতে বোলিং করানো হয়েছে তাঁকে। বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের ওপর আর্চারের চাপই ইংল্যান্ডের টপ অর্ডার ভাঙার প্রধান হাতিয়ার।
বুমরার ভূমিকায় আছে ভিন্ন কৌশল। ভারত বিপদে পড়লে তাঁকে আক্রমণে এনে উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। যদিও এবারের বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে বুমরা এক ওভারও পাওয়ারপ্লেতে বোলিং করেননি, কিন্তু প্রয়োজনমতো আগুন ঝরাতে সক্ষম। তিনি রানের চাপ কমাতে এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট পেতে বিশেষভাবে ব্যবহার করা হয়।
ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীর জানিয়েছেন, “বুমরা আমাদের নির্ভরতার জায়গা। প্রতিপক্ষের শক্তি অনুযায়ী আমরা তাঁকে বিভিন্ন সময় ব্যবহার করি। মিডল অর্ডার শক্তিশালী হলে তাকে আবার ফিরে আনা হয়। আমরা ভবিষ্যতেও এমন করব।”
ইংল্যান্ডের ওপেনার ফিল সল্ট ও জস বাটলার আক্রমণাত্মক হলেও এখনও পুরো ছন্দে নেই। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপরীতে আর্সদীপ সিংকে পাওয়ারপ্লেতে বেশি ব্যবহার করতে পারে ভারত। বুমরাকে এক বা একাধিক ওভার খেলার সম্ভাবনা রয়েছে মূলত হ্যারি ব্রুক বা ক্রিজে থাকা বিপজ্জনক ব্যাটসম্যানদের উপর নির্ভর করে।
আর্চার পাওয়ারপ্লেতে ব্যতিক্রমী। তিনি ৭ ম্যাচে ৮টি উইকেট ও ৬৬টি ডট বল করেছেন। তবে মাঠ ছোট হওয়ার কারণে ফাস্ট বোলারদের ঝুঁকি থাকে—কোণেও লাগলেই চার বা ছক্কা হতে পারে। বুমরা ও আর্চার উভয়কেই তাই সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে।
শেষ পর্যন্ত আজকের ম্যাচে কে হিটম্যান, কে পাওয়ার প্লের রাজা—এটা নির্ভর করছে পারফরম্যান্স, কৌশল ও ভাগ্যের ওপর। ক্রিকেট প্রেমীদের চোখ থাকবে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের প্রতিটি বলের উপর।
