ভারত সরকার বাংলাদেশে নিযুক্ত কূটনীতিকদের পরিবারের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে তাদের সাময়িকভাবে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (PTI) জানায়, এই সিদ্ধান্ত সোমবার, ২০ জানুয়ারি, কেন্দ্রীয় সরকারের সম্প্রসারিত ঝুঁকি মূল্যায়নের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
এই পদক্ষেপের আওতায় পড়েছে ঢাকায় ভারতের হাই কমিশন এবং খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও সিলেটের অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, সব কূটনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলবে এবং কর্মকর্তারা কোনো বাধার মুখে না পড়েই তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। প্রত্যাবাসনকে শুধুমাত্র একটি প্রাকৃতিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা কূটনীতিক পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছে।
একজন সিনিয়র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা বলেছেন, “এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধমূলক। আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের দায়িত্ব পালনে অটল। আমাদের মিশনগুলি স্বাভাবিকভাবে কাজ চালিয়ে যাবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে, পরিবারের সদস্যদের সাময়িকভাবে দেশে ফেরানো বুদ্ধিমানের কাজ।”
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিক্ষোভ এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা বিদেশি কূটনৈতিক মিশনের জন্য সতর্কতা মূলক পদক্ষেপকে প্রয়োজনীয় করে তোলে।
নিচের টেবিলে ভারতের প্রত্যাবাসিত কূটনৈতিক মিশন এবং নেওয়া ব্যবস্থাগুলি উপস্থাপন করা হলো:
| মিশন / স্থান | মিশনের ধরণ | নেওয়া ব্যবস্থা |
|---|---|---|
| ঢাকা | হাই কমিশন | কূটনীতিক পরিবারের প্রত্যাবাসন |
| খুলনা | অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশন | কূটনীতিক পরিবারের প্রত্যাবাসন |
| রাজশাহী | অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশন | কূটনীতিক পরিবারের প্রত্যাবাসন |
| চট্টগ্রাম | অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশন | কূটনীতিক পরিবারের প্রত্যাবাসন |
| সিলেট | অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশন | কূটনীতিক পরিবারের প্রত্যাবাসন |
ঐতিহাসিকভাবে, ভারত অস্থিতিশীলতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এমন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংসদীয় নির্বাচনের সময় এই প্রত্যাবাসনের সময়কাল রুটিন নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং কূটনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সচেতনতার সমন্বয় নির্দেশ করে।
বাংলাদেশ সরকার এখনও এই প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য প্রদান করেনি। তবে, দুই দেশের কর্মকর্তারা ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রেখে কূটনৈতিক কার্যক্রম কোনো ব্যাঘাত ছাড়াই চালু রাখার আশা করছেন।
এই ঘটনা নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের সংবেদনশীল নিরাপত্তা পরিবেশকে তুলে ধরে এবং ভারতের কূটনৈতিক সম্প্রদায়কে সুরক্ষিত রাখার জন্য নেয়া প্রোঅ্যাকটিভ পদক্ষেপের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
