সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে সম্প্রতি একটি উদ্বেগজনক পরিবারিক ঘটনার পরিচয় পাওয়া গেছে। স্থানীয় ও নিহতের পরিবার দাবি করছেন, রইচ উদ্দিন (৬০) নামের এক কৃষককে তারই ভাই মজনু পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর পর ঘটনাস্থলে বিদ্যুৎস্পর্শের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বলে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে। দুই ভাই—রইচ উদ্দিন ও মজনু—দীর্ঘদিন ধরে পুকুরে মাছ চাষ এবং ফসলি জমিতে বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধে জড়িত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মজনু তার সহযোগী আব্দুল লতিফ ও মোতালেবের সঙ্গে রইচ উদ্দিনের পুকুর থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ মাছ জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। বাধা দেওয়ায় রইচ উদ্দিনকে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়।
পরিবারের দাবি, ঘটনার তিনদিন পর, ১৩ মার্চ, পুলিশ মরদেহটি তার সেচপাম্পের ঘর থেকে উদ্ধার করে। নিহতের ছেলে সিয়াম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন,
“আমার বাবা দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে প্রায় ১২০–১৩০ বিঘা ফসলি জমিতে সেচ দিতেন। চাচার কাছ থেকে কেউ পানি নিতে পারত না। এ নিয়েই সংঘর্ষ ও হুমকি চলছিল। বাবা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।”
ঘটনার মূল তথ্য নিচের টেবিলে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| ঘটনা | বিবরণ | তারিখ |
|---|---|---|
| বিরোধের কারণ | পুকুরে মাছ চাষ ও সেচপাম্প নিয়ন্ত্রণ | দীর্ঘদিন |
| প্রথম সংঘর্ষ | পুকুরে জোরপূর্বক মাছ ধরা ও মারধর | ১১ মার্চ ২০২৬ |
| থানায় অভিযোগ | নিহত রইচ উদ্দিন নিজেই লিখিত অভিযোগ দায়ের | ১১ মার্চ ২০২৬ |
| মরদেহ উদ্ধার | সেচপাম্পের ঘর থেকে | ১৩ মার্চ ২০২৬ |
| নিহত | রইচ উদ্দিন, কৃষক, ৬০ বছর বয়সী | ১৩ মার্চ ২০২৬ |
| অভিযুক্ত | মজনু, একই গ্রামের চাচা | ঘটনার সময় উপস্থিত |
মজনু ঘটনার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন,
“ভাই হয়ে আমি কেন ভাইকে মারব? নানা কথা বলা হচ্ছে, আমরা কিছুই বলতে পারছি না।”
তাড়াশ থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন,
“মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে। তার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পরিবার ও স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, যদি তদন্ত যথাযথভাবে না হয়, তবে পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রিক এমন ঘটনা ভবিষ্যতেও বাড়তে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে অত্যন্ত জরুরি।
এ ঘটনাটি পরিবারিক বিরোধ, প্রাচীন সম্পত্তি অধিকার ও সেচপাম্প নিয়ন্ত্রণের জটিলতা তুলে ধরছে। প্রাথমিকভাবে পরিকল্পিত হত্যা ও বিদ্যুৎস্পর্শের বিভ্রান্তি প্রচার সত্য নির্ণয় প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে, যা সুষ্ঠু তদন্তের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সক্রিয় নজরদারি আশা করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ধরনের হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধ করা যায় এবং পারিবারিক সহিংসতা রোধ করা সম্ভব হয়।
