ভর্তিতে লটারি বন্ধ ও নতুন বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ

ঢাকা, সোমবার (১৬ মার্চ) – দেশের সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “ভর্তির ক্ষেত্রে সকল শিক্ষার্থীকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে লটারি বাতিল করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা, সক্ষমতা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে ভর্তি নিশ্চিত করা হবে।”

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, বিদ্যালয় বৃত্তি পরীক্ষা আগের নিয়ম অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশগ্রহণকারীরা তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে বৃত্তি পাবেন। তিনি বলেন, “বৃত্তি পরীক্ষার নিয়মে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ফলাফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পাবেন।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে নতুন নিয়োগ

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়েও ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

নিয়োগকৃত নতুন উপাচার্য ও চেয়ারম্যানদের তালিকা নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

বিশ্ববিদ্যালয়নতুন উপাচার্য / চেয়ারম্যানপূর্বের পদবি / মন্তব্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামউন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছিলেন
উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খাননতুন নিয়োগ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলামপ্রো-ভিসি থেকে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি
কুয়েটঅধ্যাপক ড. মো. মাসউদনতুন নিয়োগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়অধ্যাপক ড. ফোরকানদায়িত্ব প্রদান হয়েছে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলামনতুন নিয়োগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়অধ্যাপক রইস উদ্দিননতুন উপাচার্য
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য থেকে চেয়ারম্যান; পূর্ববর্তী চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ পদত্যাগ করেছেন

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নতুন নিয়োগগুলো শিক্ষাক্ষেত্রে মান উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কুয়েট, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের দায়িত্ব নেওয়া শিক্ষার মান এবং গবেষণার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ ও সুযোগবান্ধব করার জন্য নিয়মিত সংস্কার চালু থাকবে। ছাত্রছাত্রীদের জন্য সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেন সমান সুযোগ দিতে পারে, সেটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

এভাবে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

এই পদক্ষেপ শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে যোগ্যতা, স্বচ্ছতা এবং সুযোগ সমতা প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে থাকবে।