উত্তরাখণ্ড রাজ্যের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যের অমূল্য অংশ হিসেবে খ্যাত ‘ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স’ এবং নন্দাদেবী জাতীয় উদ্যানের সংলগ্ন বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল বর্তমানে ভয়াবহ দাবানলের কবলে পড়েছে। শীতকালে অনাবৃষ্টি এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে এই অঞ্চলের বনাঞ্চল প্রায় সম্পূর্ণরূপে শুষ্ক হয়ে যাওয়ায় এক প্রকার ‘বারুদপাতার’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা দাবানলের বিস্তারকে অত্যন্ত দ্রুত ও বিপজ্জনক করেছে।
স্থানীয় বনদপ্তর ও আবহাওয়াবিদদের মতে, দাবানলের সূত্রপাত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় প্রাথমিক ক্ষতি অল্প সময়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মহাকাশ থেকে পাঠানো স্যাটেলাইট চিত্রেও লেলিহান আগুনের শিখা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ভারতীয় বিমানবাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার করছে এবং বনকর্মী ও স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা রাতদিন তৎপর রয়েছেন।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শীতকাল ক্রমশ উষ্ণ ও শুষ্ক হয়ে উঠছে, যা এই ধরনের দাবানলের মূল কারণ। এই দাবানল হিমালয়ের অমূল্য জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে, পাশাপাশি ভূমিক্ষয় ও ধসের ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি করছে।
উত্তরাখণ্ডে দাবানলের বিস্তার ও ক্ষয়ক্ষতির সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| তারিখ | অঞ্চল | পরিস্থিতি | পদক্ষেপ |
|---|---|---|---|
| ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর | নন্দাদেবী বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ | স্যাটেলাইটে দাবানল শনাক্ত | জরুরি সতর্কতা জারি |
| ২০২৬ সালের জানুয়ারি | ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স ও আশেপাশের বনাঞ্চল | আগুনের বিস্তার | ভারতীয় বিমানবাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার |
| ২০২৬ সালের জানুয়ারি | উত্তরাখণ্ডের অন্যান্য বনাঞ্চল | কিছু অংশ নতুন করে আগুনে আক্রান্ত | বনকর্মী ও স্থানীয় উদ্ধারকর্মী মোতায়েন |
‘ফরেস্ট সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’ ইতোমধ্যেই উত্তরাখণ্ডের জন্য ১,৬০০-এর বেশি সতর্কবার্তা জারি করেছে। প্রশাসন জানাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অগ্নিনির্বাপন, জল সরবরাহ ও উদ্ধারকাজ দ্রুত ত্বরান্বিত করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে বনাঞ্চলের ক্ষতি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।
উত্তরাখণ্ডের এই দাবানল শুধুমাত্র স্থানীয় মানুষ এবং বনজীবনের জন্যই হুমকি নয়; এটি পুরো হিমালয়ের পরিবেশ ও জলবায়ুর ভারসাম্যকেও বিপদে ফেলেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় দিন-রাত এক করে কাজ করছে, যাতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো যায়।
