ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আব্দুর রহমান প্রকাশ (৩০), সাধারণ নাম ‘কালু’, নামে এক দীর্ঘদিনের মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (২২ মার্চ) দুপুরে উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের খাটিংগা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জেলা পুলিশের একটি বিশেষ টিম তাকে ধাওয়া করে আটক করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তার আব্দুর রহমান চাঁনপুর গ্রামের সাফি উদ্দিনের ছেলে। পুলিশ সূত্র জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ অন্যান্য নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য সরবরাহ এবং বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে একটি মাদক মামলা চলমান রয়েছে। এবার ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযানের প্রেক্ষাপট
জেলা পুলিশের আউলিয়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে। সংবাদের তথ্য অনুযায়ী, আব্দুর রহমান স্থানীয় ও আন্তঃজেলার মাদক বাজারে সক্রিয়ভাবে ইয়াবা সরবরাহ করছে। পুলিশ জানায়, তিনি একাধিক দফায় মাদক পরিবহন এবং বিতরণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং যুবসমাজের মধ্যে মাদক সৃষ্টির জন্য ভূমিকা পালন করছিলেন।
অভিযানের সময় পুলিশ ১০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করে। এমন বড় পরিমাণ মাদক উদ্ধার সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রেপ্তার ও মামলা সংক্রান্ত তথ্য
নিচের টেবিলে অভিযানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| গ্রেপ্তার ব্যক্তি | আব্দুর রহমান প্রকাশ (কালু), ৩০ বছর, চাঁনপুর গ্রামের সাফি উদ্দিনের ছেলে |
| গ্রেপ্তার স্থান | পাহাড়পুর ইউনিয়ন, খাটিংগা, বিজয়নগর উপজেলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া |
| গ্রেপ্তার তারিখ | ২২ মার্চ ২০২৬, দুপুরে |
| জব্দ মাদক | ১০,০০০ পিস ইয়াবা |
| অভিযানের সূত্র | আউলিয়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের বিশেষ টিম, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে |
| পূর্বের মামলা | একটি চলমান মাদক মামলা রয়েছে |
| নতুন মামলা | ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের ভিত্তিতে দায়ের করা হয়েছে |
| পুলিশের মন্তব্য | স্থানীয় ও আন্তঃজেলার মাদক বাজার নিয়ন্ত্রণে বড় ধাপ, জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ |
ডিএমপি জানায়, “মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” পুলিশ মনে করছে, এই অভিযান কেবল মাদক উদ্ধারই নয়, বরং স্থানীয় কমিউনিটি এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে একত্রিত করে মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এই ধরনের অভিযান মাদক কারবার সীমিত করবে এবং যুবসমাজকে সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে নিরাপদ ও সচেতন জীবনযাপনের সুযোগ করে দেবে।
