ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খুন-খারাবি, জেলা জুড়ে আতঙ্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গুলি ও গলা কেটে মানুষ হত্যার ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে উঠেছে। গত এক মাসে তিনজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, আর কয়েকজন আহত হয়েছেন। রাতে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে। অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার ও হত্যার ঘটনায় জেলার মানুষ আতঙ্কিত।

বাঞ্ছারামপুরের সাবেক ইউপি সদস্য মো. মুছা মিয়ার গলাকাটা লাশ গত রোববার সন্ধ্যায় ছলিমাবাদ ইউনিয়নের হোসেনপুর পাঠামারা জোয়ারার বিলে পাওয়া যায়। তার ছেলে মো. উজ্জল মিয়া জানান, ড্রেজার ব্যবসায়ী মোস্তফা মিয়া ফোন করে বাবার হত্যার খবর জানান। ২৭শে নভেম্বর গভীর রাতে ছাত্রদলের সাবেক কর্মী সাদ্দাম হোসেনকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে হত্যা করা হয়।

সেদিন সন্ধ্যা থেকে কান্দিপাড়া এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। লায়ন শাকিলকে মাদ্রাসা রোডে বন্দুক নিয়ে দৌড়াতে দেখা যায়। তার গুলিতে তিনজন আহত হন। পরে বাড়ির গেটে মারধরের ঘটনা ঘটে রবিন এবং তার ছোট ভাই রিজনকে লক্ষ্য করে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন দিলীপকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে সাদ্দাম হত্যার মামলা দায়ের করা হয়। শাকিল ও দিলীপের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শহরের কান্দিপাড়া উত্তপ্ত ছিল। প্রধান আসামি দেলোয়ার হোসেন দিলীপ ও বাবুল মিয়া র‌্যাবের অভিযানে রোববার রাতে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হন।

এর আগে ১লা নভেম্বর নবীনগরের বড়িকান্দিতে শিপন মিয়াকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়, দুইজন আহত হন এবং পরে হাসপাতালে মারা যান। র‌্যাব-৯ অভিযানে প্রধান অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হন। ২৪শে অক্টোবর নবীনগরে বিএনপি নেতা মফিজুর রহমান মুকুল গুলিবিদ্ধ হন।

গত কয়েক মাসে কলেজছাত্রী ফারজানা আক্তার জুঁই ও উমর হাসানের হত্যাসহ আরও কিছু হত্যাকাণ্ড ঘটে। পুলিশি নির্যাতনে আব্দুল্লাহ (২৭) মারা যান। ২৫শে অক্টোবর সাদেকপুরে বল্লমের আঘাতে মো. নাসির উদ্দিন নিহত হন। ২৩শে নভেম্বর সরাইলের দেওড়া গ্রামে সংঘর্ষে আরফোজ মিয়া (৫৫) নিহত হন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ওবায়দুর রহমান জানিয়েছেন, তারা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।

জিলাইভ২৪/এসএস