কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া বেদনাদায়ক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা সম্প্রতি দেশবাসীকে হতবাক করেছে। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পূর্ব গোপালনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম (৫২) পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে এক বছরের বেশি সময় ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষক মনিরুল ইসলাম বারবার ছাত্রীকে অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে হাত দেয় এবং তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কোনও কিছু কাউকে বলার চেষ্টা করলে মারধর বা পরীক্ষায় ফেল করার হুমকি দিতেন।
ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধানে জানা যায়, নভেম্বর মাসের ২১, ২৭ ও ২৯ তারিখে শিক্ষার্থীকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। পরিবারের সদস্যরা ছাত্রীকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি পুরো বিষয়টি খুলে বলেন। এরপর তার মা বাদী হয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং ১৮ ডিসেম্বর রাতে এস আই মেহেদী হাসান জুয়েল নেতৃত্বে একদল ফোর্স শিক্ষককে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) টমাস বড়ুয়া নিশ্চিত করেছেন যে অভিযোগ সত্য এবং বর্তমানে বিচার প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় সমাজকর্মীরা বিষয়টিকে খুবই দুঃখজনক উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, “শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও যে কেউ এমন অপরাধে লিপ্ত হতে পারে তা শিশুদের নিরাপত্তা ও মানসিক বিকাশের জন্য বড় ধরনের হুমকি।”
শিশু অধিকার সংরক্ষণকারী সংগঠনগুলোও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এমন ঘটনাগুলোতে শুধুমাত্র অপরাধীকে দণ্ডিত করলেই নয়, বরং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং ও শিশু শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
