ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে কি ফিরছেন নেইমার, কী বাধা তাঁর পথে

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই প্রতিটি সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারী দল নিজেদের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে উঠছে। কারা থাকবেন মূল দলে, কারা ছিটকে পড়বেন—এই প্রশ্ন ঘিরেই চলছে ব্যাপক আলোচনা। তবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের ক্ষেত্রে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বারবার ফিরে আসছে একটি নামই—নেইমার জুনিয়র। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁকে আবার দেখা যাবে কি না, সেটাই এখন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

নেইমারের ব্যক্তিগত বাস্তবতা কিন্তু মোটেও সহজ নয়। সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলাল ছেড়ে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফেরার পর ২০২৫ সালটা তাঁর জন্য গেছে চোট, পুনর্বাসন আর ফর্ম ফিরে পাওয়ার সংগ্রামে। দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকার ফলে তাঁর ম্যাচ ফিটনেস ও গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবু নেইমার মানেই জেদ আর আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তাঁর মনোজগতে এখনও বিশ্বকাপ জয়ের দৃঢ় স্বপ্ন জ্বলজ্বল করছে।

সম্প্রতি ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ‘কিংস লিগ’ টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে শিরোপা জেতা দলটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নেইমার। টুর্নামেন্ট শেষে সংবাদমাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ২০২৬ সাল ব্রাজিলের জন্য বিশেষ হতে পারে। তাঁর ভাষায়, বছরের শুরুটা ইতিবাচক হয়েছে এবং ঈশ্বরের ইচ্ছায় ব্রাজিল আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সামর্থ্য রাখে। এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, তিনি কেবল দলে ফেরার স্বপ্নই দেখছেন না, বরং নিজেকে ভবিষ্যৎ সাফল্যের অংশ হিসেবেই কল্পনা করছেন।

তবে স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা কোচ কার্লো আনচেলত্তির কঠোর নীতি। আনচেলত্তি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কেবল নাম বা অতীত সাফল্যের ভিত্তিতে কাউকে দলে রাখা হবে না। যিনি শতভাগ ফিট ও নিয়মিত পারফর্ম করতে পারবেন, তিনিই পাবেন বিশ্বকাপের টিকিট। ২০২৩ সালের পর জাতীয় দলের জার্সিতে না খেলা নেইমারের জন্য এটি এক বড় চ্যালেঞ্জ।

সান্তোসের হয়ে প্রতিটি ম্যাচই এখন নেইমারের জন্য একেকটি পরীক্ষা। তাঁকে প্রমাণ করতে হবে—তিনি এখনও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম, তরুণদের ভিড়েও তাঁর অভিজ্ঞতা ব্রাজিলের জন্য অপরিহার্য। সামনে সময় কম, সুযোগ সীমিত। তবু বিশ্বাস আর উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়েই তিনি অপেক্ষা করছেন সেই সোনালি ট্রফির, যে ট্রফি অতীতে বারবার তাঁকে ছুঁয়ে দেখেও অধরা থেকেছে।

নেইমারের ক্যারিয়ার ও বর্তমান বাস্তবতা (সংক্ষেপ)

বিষয়তথ্য
জন্ম৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২
জাতীয় দলের অভিষেক২০১০
ব্রাজিলের হয়ে গোল৭০+ (আনুমানিক)
বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ২০১৪, ২০১৮, ২০২২
বর্তমান ক্লাবসান্তোস
প্রধান চ্যালেঞ্জফিটনেস ও ধারাবাহিকতা

হয়তো ২০২৬ বিশ্বকাপই নেইমারের শেষ বড় সুযোগ। শেষবারের মতো নিজেকে প্রমাণ করে ব্রাজিলকে হেক্সার পথে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বপ্নই তাঁকে এখনও মাঠে টেনে রাখছে।