জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় একটি ভাসমান সেতু ভেঙে পড়ে চার শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে এবং আরও দুই শিশু নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে আজ শনিবার বিকেল ৫টার দিকে দেওয়ানগঞ্জ থানার সামনে ব্রহ্মপুত্র নদে।
নিহত শিশুরা হলো:
| নাম | বয়স | গ্রামের নাম/ঠিকানা | লিঙ্গ |
|---|---|---|---|
| মায়ামনি | ১০ | ডাকাতিয়াপাড়া, জয়নাল মিয়ার মেয়ে | মেয়ে |
| আবিদ | ১৪ | বেলতল এলাকা | ছেলে |
| আবদুল মোতালেব | ৬ | ঝালুরচর, শের আলীর ছেলে | ছেলে |
| খাদিজা | ১২ | ঝালুরচর এলাকা | মেয়ে |
নিখোঁজ দুই শিশুর পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় ঈদের ছুটির আনন্দে ব্রহ্মপুত্র নদে ভাসমান সেতুর ওপর প্রচণ্ড ভিড় জমেছিল। অতিরিক্ত ভীড় ও চাপের কারণে সেতুটি ভেঙে পড়ে। এতে অনেকেই নদীতে পড়ে যান, যাদের মধ্যে অনেকে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে পাঁচটি শিশু নিখোঁজ হন।
দেওয়ানগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধারকাজে অব্যাহত রয়েছেন। আহত একটি শিশু শান্তি বর্তমানে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
দেওয়ানগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের লিডার মুবিন খান আজ রাত সাড়ে ৮টার দিকে জানান, চারটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিখোঁজদের খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা চলছে। উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের নেতৃত্বে, স্থানীয়দের সহায়তায়।
উল্লেখযোগ্য যে, ভাসমান সেতু ব্যবহারের সময় অতিরিক্ত ভীড় এবং নিরাপত্তা বিধি না মানার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। স্থানীয় প্রশাসন এবং নদী পারাপারের কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
দূর্ঘটনার পর থেকে নদীর তীরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং স্থানীয়রা শিশুদের সাঁতার শেখার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মনোযোগ দিচ্ছেন। উদ্ধারকাজ রাতভর চলবে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।
এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারগুলো গভীরভাবে মর্মাহত এবং স্থানীয় প্রশাসন নিহত ও নিখোঁজ শিশুর পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ভাসমান সেতু ও নদী সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
