বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাংক খাতের আমানত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও বেসরকারি খাতে ঋণ সম্প্রসারণে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, খাদ্যপণ্যের দাম কমার কারণে সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি একক অঙ্কে নেমে এসেছে। তবুও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) নভেম্বর ২০২৫-এর “ইকনোমিক আপডেট এন্ড আউটলুক” প্রতিবেদনে এই তথ্যসমূহ প্রকাশিত হয়েছে। সংস্থাটি সোমবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রপ্তানিতে কিছু অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তবে মধ্যম পর্যায়ের পুনরুদ্ধারের আশাবাদ রয়েছে। খাদ্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকায় এবং সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নতির কারণে সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি কমেছে। অভ্যন্তরীণ সরবরাহ শৃঙ্খলের ধীর স্থিতিশীলতা ও আমদানিকৃত পণ্যের চাপ কম থাকার কারণে অক্টোবর ২০২৫-এ সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি ৮.১৭ শতাংশে নেমেছে।
খাদ্য মূল্যস্ফীতি অক্টোবর মাসে ৭.০৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া, বহির্ভূত বা নন-ফুড মুদ্রাস্ফীতি সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ৯.১৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আবাসন, পরিবহন ও স্বাস্থ্য খাতে চলমান চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
চালের দাম ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে কমতে শুরু করে। নতুন আমন ফসল, আমদানি এবং সরকারি ক্রয়ের বৃদ্ধির কারণে দেশীয় মজুদ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলশ্রুতিতে চালের গড় খুচরা মূল্য হ্রাস পেয়েছে। অক্টোবর মাসে চালের মূল্যস্ফীতি ১৩.৭৭ শতাংশে নেমেছে। মাছ ও মাংসের দামও খাদ্য মুদ্রাস্ফীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
নিম্নলিখিত টেবিলে অক্টোবর ২০২৫-এর মুদ্রাস্ফীতি এবং খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সারসংক্ষেপ দেখানো হলো:
| সূচক | অক্টোবর ২০২৫ | সেপ্টেম্বর ২০২৫ | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি | ৮.১৭% | ৮.৪৫% | হ্রাস |
| খাদ্য মূল্যস্ফীতি | ৭.০৮% | ৭.৩৫% | খাদ্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল |
| বহির্ভূত মুদ্রাস্ফীতি | ৯.১৩% | ৯.০১% | আবাসন, পরিবহন ও স্বাস্থ্য খাতে চাপ |
| চাল মূল্যস্ফীতি | ১৩.৭৭% | ১৫.২০% | নতুন আমন ফসল ও সরকারি উদ্যোগের প্রভাব |
| মাছ ও মাংস মূল্যস্ফীতি | ৬.৮০% | ৭.১০% | খাদ্য মুদ্রাস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান |
প্রতিবেদনটি আরও উল্লেখ করেছে, ব্যাংক খাতের আমানত বৃদ্ধি গতিশীল থাকলেও ঋণ সম্প্রসারণে বেসরকারি খাত এখনো ধীরগতি বজায় রেখেছে। পরিকল্পনামন্ত্রক এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি প্রণয়নের পরামর্শ দিচ্ছে।
