রাজধানীর আজিমপুরে এক নারী স্বামীর প্রতারণা, ভরণপোষণ না দেওয়া এবং দাম্পত্য জীবনের ব্যক্তিগত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের হুমকির শিকার হয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। শীর্ষ আদালতের ন্যায়বিচার দাবি করে ভুক্তভোগী সোনিয়া আক্তার শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ উত্থাপন করেন।
সোনিয়া আক্তার জানিয়েছেন, ২০২২ সালে কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা মোহাম্মদ রকি হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিবাহের শুরু থেকেই স্বামীর আচরণে অস্থিরতা লক্ষ্য করা যায়। কিছুদিন পর স্বামী পরিবারের কাছ থেকে নিজেকে আলাদা করে আত্মগোপনে চলে যান। সোনিয়ার কথায়, “স্বামী কখনো আমাকে স্ত্রীরূপে স্বীকার করেন না, আবার কখনো স্বীকার করেন। এর ফলে আমার মানসিক নিরাপত্তা ক্রমশ ক্ষুণ্ন হচ্ছে।”
ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেছেন, দাম্পত্য জীবনের গোপন মুহূর্তের কিছু ছবি স্বামী গোপনভাবে ধারণ করেছেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের হুমকি দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে কিছু ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে, এবং আরও প্রকাশের হুমকি রয়েছে। রকি হোসেন ওই ছবি প্রকাশ না করার বিনিময়ে সোনিয়ার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা দাবি করেছেন।
সোনিয়া পুলিশের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সহায়তা কামনা করেছেন। তিনি বলেন, “স্বামী থেকে রক্ষা পেতে আমি পুলিশের আইজি ও ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের ন্যায়বিচারের জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি।”
ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য নিম্নরূপ:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| ভুক্তভোগী | সোনিয়া আক্তার |
| স্বামী | মোহাম্মদ রকি হোসেন |
| বিবাহের বছর | ২০২২ |
| ঘটনার স্থান | আজিমপুর, ঢাকা |
| অভিযোগ | প্রতারণা, ভরণপোষণ না দেওয়া, গোপন ছবি প্রকাশের হুমকি |
| ইতোমধ্যে প্রকাশিত ছবি | কিছু ছবি ফেসবুকে প্রকাশিত |
| দাবিকৃত টাকা | ৫ লাখ টাকা |
| সহায়তা কামনা | পুলিশের আইজি ও ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার |
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার একটি গুরুতর অপরাধ। এটি দাম্পত্য সম্পর্কের মধ্যে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার গুরুত্ব পুনঃপ্রমাণ করে। তারা সতর্ক করেছেন, প্রতিটি দম্পতিকে সচেতন হতে হবে এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
সোনিয়ার ঘটনা সামাজিক সচেতনতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে, যা ব্যক্তিগত তথ্য ও গোপনীয়তার সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
