বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন দফা দাবি ও কর্মসূচি ঘোষণা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখা মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের তিন দফা দাবি এবং তিনটি মূল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সভাপতি রিফাত রশিদ, হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসান এবং ‘জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত সুরভী।

সংগঠনটি দাবি করেছে যে মাহদী হাসান ও সুরভীকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে চলমান মামলা বাতিল করে তাদের দায়মুক্তি প্রদান করতে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। এছাড়া, পুলিশি ও প্রশাসনিক হেনস্থাকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

সংগঠনটি আরও দাবী করেছে, জুলাই বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং অন্যান্য সামরিক, আধা-সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করে তাদের সম্মাননা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্যাসিবাদের কারণে সশস্ত্র বাহিনীতে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত অফিসারদের দ্রুত পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল পদে নিয়োগও দাবির মধ্যে রয়েছে।

সংগঠনটির ঘোষিত তিনটি কর্মসূচি হলো:

ক্রমিককর্মসূচিবিশদ বিবরণ
শহীদ থানার তথ্য সংগ্রহসারাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যে সকল থানার অধীনে ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন, সেই সকল থানার ওসি, সংশ্লিষ্ট জেলা এসপি ও তদূর্ধ্ব কমান্ডিং অফিসারদের তালিকা প্রস্তুত করে আইসিটি ট্রাইব্যুনালে মামলা দাখিল করা।
ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারিরাষ্ট্রপতির মাধ্যমে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি নিশ্চিত করতে আইন উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা।
নির্বাচনী ইশতেহারে নিরাপত্তাদেশের বৃহত্তম দুই রাজনৈতিক জোটের প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জুলাই বিপ্লবীদের নিরাপত্তা ও চেতনাকে নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার দাবী।

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী হাসান বলেন, “যখন পুরো দেশ বিজয় মিছিলে মেতে উঠেছিল, তখন আমাদের হবিগঞ্জে নয়জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। থানায় মামলা করা হয়ে গেছে বাণিজ্যের মতো। আমাকে গ্রেফতার করা হয়, শুধুমাত্র আন্দোলনের পক্ষে কথা বলার কারণে।”

সুরভী বলেন, “যে পুলিশ আমাকে ‘আপু’ বলে ডাকত, তারাই আমার সঙ্গে এমন নিকৃষ্ট আচরণ করেছে, যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ১১ দিন ধরে জেল এবং দুইবার রিমান্ডে থাকা অবস্থায় আমার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ পর্যন্ত বাধা দেওয়া হয়। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নই। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে দেশের জন্য আন্দোলন করেছি, তবুও এমন নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমি চাই এই মামলা থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।”

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন স্পষ্ট করেছেন যে, আন্দোলনের সময়কার হত্যাকাণ্ড, হেনস্থা এবং প্রশাসনিক দমনমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা তাদের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে আন্দোলনটি জানাচ্ছে, দেশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় তাদের কর্মসূচি চলমান থাকবে।