ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বেঙ্গালুরুর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ফ্রাঞ্চাইজির মালিকানা বিক্রি হয়েছে রেকর্ড ₹২১,৮৫০ কোটি মূল্যে, যা প্রায় $১.৭৮ বিলিয়নের সমমূল্য। ২০০৮ সালে প্রথম ক্রয়ের তুলনায় দলটির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে অভূতপূর্ব ১,৪৯৫ শতাংশ।
নতুন মালিকানা একটি কনসোর্টিয়ামের হাতে এসেছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন অর্যমান বিক্রম বিৰ্লা। কৌশলগত অংশীদার হিসেবে রয়েছেন টাইমস অফ ইন্ডিয়া গ্রুপ, বোল্ট ভেঞ্চারস এবং ব্ল্যাকস্টোন। এখন এই কনসোর্টিয়াম পুরুষ আইপিএল দল এবং মহিলা প্রিমিয়ার লিগ দল—উভয়ই—পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, যা বেঙ্গালুরু ক্রিকেটকে একক মালিকানায় সংহত করেছে।
ফ্রাঞ্চাইজির ক্রয়ের ইতিহাস সংক্ষেপে নিম্নরূপ:
| বছর | মালিক | ক্রয়মূল্য | প্রেক্ষাপট |
|---|---|---|---|
| ২০০৮ | ভিজয় মাল্যা | $১১১.৬ মিলিয়ন | আটটি আইপিএল দলের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মূল্যের দল |
| ২০১৬ | ডায়াজিও (ইউকেতে অবস্থিত) | তথ্য নেই | মাল্যার দেশত্যাগের পর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ |
| ২০২১ | বিসিসিআই (লখনৌ ও আহমেদাবাদ ফ্রাঞ্চাইজি) | $১.৬৯ বিলিয়ন | নতুন ফ্রাঞ্চাইজির বিক্রয় মূল্যের মান নির্ধারণ |
| ২০২৬ | আদিত্য বিৰ্লা নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম | $১.৭৮ বিলিয়ন (₹২১,৮৫০ কোটি) | আইপিএল ও ডব্লিউপিএল দলের পূর্ণ মালিকানা |
২০০৮ সালে ভিজয় মাল্যার ইউনাইটেড ব্রিউয়ারিজ দলটি $১১১.৬ মিলিয়নে কিনেছিল। ১৮ বছরের মধ্যে দলের মূল্য এমনভাবে বেড়েছে যে এটি ২০২১ সালে বিক্রি হওয়া লখনৌ ও আহমেদাবাদ ফ্রাঞ্চাইজির যৌগিক মূল্যের চেয়ে বেশি।
২০১৬ সালে মাল্যার দেশত্যাগের পর ডায়াজিও দলটির দায়িত্ব গ্রহণ করে। তবে ২০২৫ সালের ৪ জুন বেঙ্গালুরু চ্যাম্পিয়নশিপ উদযাপনের সময় একটি শোকাবহ দুর্ঘটনা ঘটে, যেখানে ১১ জন ভক্ত প্রাণ হারান এবং আরও অনেকে আহত হন। এই ঘটনায় জনসাধারণের চাপের ফলে ডায়াজিও ফ্রাঞ্চাইজিটি বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করে। বিক্রির প্রক্রিয়া নভেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হয়ে ৩১ মার্চ ২০২৬-এ সমাপ্ত হয়।
নতুন মালিকানায় অর্যমান বিক্রম বিৰ্লা চেয়ারম্যান এবং সত্যেন গাজবানি উপ-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা হলেন ডেভিড ব্লিটার (বোল্ট ভেঞ্চারস) এবং ভাইরাল পাটেল (বিএক্সপিই সিইও)।
এই ঐতিহাসিক বিক্রি কেবল আইপিএলের আর্থিক মানকে নয়, বেঙ্গালুরু ক্রিকেটের ভবিষ্যতকেও সংজ্ঞায়িত করেছে। পুরুষ ও মহিলা দল উভয়ই এখন এক সুসংগঠিত, উচ্চপ্রোফাইল মালিকানার অধীনে। নতুন নেতৃত্বের অধীনে বেঙ্গালুরু ক্রিকেট একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে, যা দলের কৌশলগত ও সামাজিক দায়িত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।
