বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে নির্বাচনী মাঠে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর-সদর আংশিক) আসনে এক অভূতপূর্ব ও চাঞ্চল্যকর দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। একের পর এক প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার পর নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে নির্বাচনী গণসংযোগে নেমেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইজাদুর রহমান মিলন। রাজপথের মিছিলে বা পাড়া-মহল্লার উঠোন বৈঠকে প্রার্থীর এমন ‘রণসজ্জা’ স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে যেমন কৌতূহল সৃষ্টি করেছে, তেমনি নির্বাচনী এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

হুমকির আতঙ্ক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা উদ্যোগ

ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইজাদুর রহমান মিলন অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করার পর থেকেই বিভিন্ন অজ্ঞাত নম্বর থেকে তাঁকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি সরাসরি আক্রমণেরও ইঙ্গিত পেয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। এমতাবস্থায় প্রশাসনের কাছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না পেয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সংগৃহীত বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি, ২০২৬) নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণার সময় মিলন বলেন, “রাজনীতি করতে এসে জীবন বিলিয়ে দিতে পারি না। যখন একের পর এক হুমকি আসছে, তখন নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই নিশ্চিত করতে হচ্ছে। আমি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরেই জনগণের কাছে ভোট চাইছি যাতে অন্ততঃ কোনো অতর্কিত হামলায় প্রাণ হারাতে না হয়।”

প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি ও বর্তমান অবস্থা:

বিষয়ের বিবরণবিস্তারিত তথ্য
প্রার্থীর নামইজাদুর রহমান মিলন।
আসন ও প্রতীকগাজীপুর-৩; ঘোড়া প্রতীক।
রাজনৈতিক অতীতসাবেক সভাপতি, গাজীপুর সদর উপজেলা বিএনপি।
জনপ্রতিনিধিত্বসাবেক চেয়ারম্যান, গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদ।
দলীয় অবস্থান২০২৪ সালে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত।
নিরাপত্তা সরঞ্জামবুলেটপ্রুফ জ্যাকেট (ব্যক্তিগতভাবে সংগৃহীত)।
মূল অভিযোগমোবাইল ফোনে অব্যাহত প্রাণনাশের হুমকি।

স্থানীয় রাজনীতিতে মিলনের প্রভাব

ইজাদুর রহমান মিলন গাজীপুর সদর ও শ্রীপুর এলাকার রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। বিএনপি দলীয় পদ এবং উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর একটি বিশাল ব্যক্তিগত অনুসারী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হলেও এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাঁর মাঠে নামা ক্ষমতাসীন এবং বড় দলগুলোর প্রার্থীদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই ‘বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট’ পরিহিত প্রচারণা একদিকে যেমন জীবন রক্ষার কৌশল, অন্যদিকে এটি নির্বাচনী এলাকায় ভীতিকর পরিবেশের এক নীরব প্রতিবাদ।

প্রশাসনের বক্তব্য ও আইনি দিক

নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীর এমন কৌশলের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানায়, যেকোনো প্রার্থীর জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে ব্যক্তিগতভাবে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে গণসংযোগ করার বিষয়ে আইনে সুনির্দিষ্ট কোনো বাধা নেই। গাজীপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, হুমকি-ধামকির বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপসংহার

সংসদ নির্বাচনের ইতিহাসে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে গণসংযোগ করার ঘটনা বিরল। এটি কেবল ইজাদুর রহমান মিলনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, বরং গাজীপুর-৩ আসনের নির্বাচনী পরিবেশ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে তারই এক জ্বলন্ত প্রমাণ। সাধারণ ভোটাররা প্রত্যাশা করছেন, হুমকি ও ভয়ের সংস্কৃতি দূর করে প্রশাসন একটি অবাধ ও নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে তুলবে, যেখানে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছাড়াই প্রার্থীরা নির্ভয়ে জনগণের কাছে যেতে পারবেন।