বুড়িচংয়ে র‌্যাব অভিযানে মা-ছেলের কাছ থেকে ২০ কেজি গাঁজা জব্দ

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-এর মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২০ কেজি গাঁজাসহ এক মা ও তার ছেলে গ্রেপ্তার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে র‌্যাব। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন গোবিন্দপুর গ্রামের মো. রাসেলের স্ত্রী রোবিনা আক্তার (৩৮) এবং তাদের ছেলে মো. রিফাত (২৫)। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং একটি সংগঠিত চক্রের অংশ হিসেবে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করতেন।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গোবিন্দপুর এলাকায় অবস্থান নেয়। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধি নজরদারির পর নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় মা-ছেলেকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে তাদের দেহ ও হেফাজত তল্লাশি করে ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব মাদক পাইকারি বাজারে সরবরাহের উদ্দেশ্যে মজুদ করা হয়েছিল।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে র‌্যাব, তারা দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে মাদক সংগ্রহ করে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাইকারি ও খুচরা দামে বিক্রি করে আসছিলেন। র‌্যাব আরও জানিয়েছে, এ চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে, যাদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

র‌্যাব-১১ এর কোম্পানি অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং পুরো নেটওয়ার্ককে আইনের আওতায় আনার জন্য কাজ চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দপুর ও আশপাশের কিছু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার ও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। সীমান্তঘেঁষা অবস্থানের কারণে এ অঞ্চলকে মাদক চোরাচালানের একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডর হিসেবে ব্যবহার করা হয় বলে একাধিক সূত্রের দাবি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে আবারও আলোচনায় এসেছে পারিবারিকভাবে মাদক ব্যবসায় জড়িত হওয়ার প্রবণতা। সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পুনর্বাসন কর্মসূচি এবং বিকল্প কর্মসংস্থান নিশ্চিত না করলে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পুরোপুরি দমন করা কঠিন হবে।

গ্রেপ্তার ও উদ্ধার সংক্রান্ত তথ্য

বিষয়বিবরণ
অভিযানকারী সংস্থার‌্যাব-১১, সিপিসি-২
অভিযান এলাকাগোবিন্দপুর, বুড়িচং, কুমিল্লা
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরোবিনা আক্তার (৩৮), মো. রিফাত (২৫)
পারিবারিক সম্পর্কমা ও ছেলে
উদ্ধারকৃত মাদক২০ কেজি গাঁজা
অভিযানের সময়বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাত
অভিযোগসীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ ও বিতরণ

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুরো চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে তারা।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মাদক চোরাচালান অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে তারা দীর্ঘমেয়াদি ও সম