বিশ্বব্যাপী বীমা সংস্থার মেলামেশা ও অধিগ্রহণে ২০২৫ সালে ধীর কিন্তু স্থিতিশীল পুনরুদ্ধার লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৪ সালের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি হলেও, এফালে ক্রমবর্ধমান সংযুক্তিকরণের ধারা কৌশলগত মনোযোগের কারণে এখনও সীমিত গতিতে এগোচ্ছে।
সাইড অ্যান্ড কো (Clyde & Co)-এর বার্ষিক বীমা বৃদ্ধির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে মোট ২১১টি বীমা সংক্রান্ত লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে, যা ২০২৪ সালের ২০২টির তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি। এটি ২০২৩ সালের ৩৪৬ লেনদেনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে পরবর্তী বছরের দ্রুত পতনের ধারাকে বন্ধ করেছে। তবে দ্রুত সম্প্রসারণের চেয়ে সংস্থাগুলো কৌশলগত অধিগ্রহণে মনোযোগ দেয়ার কারণে মোট লেনদেনের সংখ্যা এখনও পূর্ণ গতিতে পৌঁছায়নি।
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অবদান
এশিয়া-প্যাসিফিক (এপ্যাক) অঞ্চলের লেনদেনের সংখ্যা ২০২৫ সালে বেড়ে ৫৯টি হয়েছে, যা ২০২৪ সালের ৩৯টির তুলনায় উল্লেখযোগ্য। জাপানের সংস্থাগুলো অভ্যন্তরীণ পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাসের পর পর্যাপ্ত মূলধন সহ বিদেশে সম্প্রসারণে বিনিয়োগ করেছে। এপ্যাক অঞ্চলে সাতটি “মেগা-ডিল”-এর মধ্যে চারটি লেনদেন হয়েছে, যেখানে প্রত্যেকটির মূল্য ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
| দেশ | লেনদেনের সংখ্যা | মোট মূল্য (বিলিয়ন ডলার) | উল্লেখযোগ্য তথ্য |
|---|---|---|---|
| জাপান | ২ | ৫.২ ও ৬.০ | স্থানীয় সংস্থার আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণে নেতৃত্ব |
| তাইওয়ান | ১ | ৮.২৫১ | গুরুত্বপূর্ণ এশিয়ান বিনিয়োগ কেন্দ্র |
| হংকং | ১ | ১০.০ | আঞ্চলিক বাজার সম্প্রসারণের প্রধান লেনদেন |
২০২৬ সালের প্রত্যাশা ও ঝুঁকি
বিশ্লেষকরা আশা করছেন যে ২০২৬ সালে বীমা লেনদেনে সতর্ক কিন্তু ধীরগতির বৃদ্ধি ঘটবে। ক্রস-বর্ডার লেনদেন বৃদ্ধি পেতে পারে, বিশেষ করে আফ্রিকা ও এপ্যাকের ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রের বাইরে নতুন বাজারে প্রবেশের জন্য।
তবে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং মূলধনের ব্যয় বৃদ্ধি সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে। সংস্থাগুলোকে এই ঝুঁকি বিবেচনা করে কৌশলগত পরিকল্পনা করতে হবে যাতে কার্যক্রম স্থিতিশীল থাকে।
মোটকথা, ২০২৫ সালে বীমা সংস্থার অধিগ্রহণে ধীর কিন্তু নিশ্চিত পুনরুদ্ধার লক্ষ্য করা গেলেও, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলই বিশ্বব্যাপী বীমা সংস্থার সম্প্রসারণের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৬ সালে কৌশলগত লেনদেনের সংখ্যা বৃদ্ধির আশায় থাকলেও, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা এই ধারাকে প্রভাবিত করতে পারে।
