২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের অবস্থা টালমাটাল হয়ে উঠেছে। এক যুগের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর নেতৃত্বে থাকা নাজমুল হাসান পাপনের পদত্যাগের পর মাত্র ২০ মাসের মধ্যে বোর্ডের চেয়ারে বসেছেন তিনজন—ফারুক আহমেদ, আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং সর্বশেষ তামিম ইকবাল।
বিসিবির নির্বাচনে নানা অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ার পর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) গতকাল বুলবুলের কমিটি ভেঙে দিয়েছে। এরপর তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি বোর্ডের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তবে ক্রমাগত এই ভাঙন ও রদবদল দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে হতাশা এবং ক্ষোভের মাত্রা বাড়িয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রথম হার্ডহিটার আফতাব আহমেদ। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আফতাব সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্টে বলেন, “বিসিবিতে যে পরিমাণ সার্কাস চলছে, যদি কেউ ২ হাজার টাকা খরচ করে টিকিট কেটে দেখেন, আপনার সেই টিকিট বৃথা যাবে না। এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সার্কাস হচ্ছে ক্রিকেট বোর্ড।”
আফতাব আরও বলেন, “আমেরিকার ক্রিকেট বোর্ডের কার্যক্রমের তুলনা করলে বোঝা যায় আমরা কতটা পিছিয়ে আছি। তিন বছর ধরে আমেরিকার ক্রিকেট বোর্ডের সদস্য কে, কোথায়, তা জানিনা। অথচ বাংলাদেশে ক্রিকেট নিয়ে কেউ জানার প্রয়োজন নেই, মিডিয়া নিজেই ঢোল পেটিয়ে সব জানিয়ে দেয়। এখানে কেউ ব্যর্থ নয়, সবকিছু জানিয়ে দেওয়া হয়।”
৪০ বছর বয়সী এই সাবেক ক্রিকেটার যোগ করেন, “এই সার্কাস কতদিন চলবে, আমি জানি না। ক্রিকেট এখন আর নেই, শুধু সার্কাস আছে। সেই সার্কাস দেখার জন্য আপনাদের সবাইকে অনুরোধ জানালাম।”
বিসিবির বর্তমান অবস্থা এবং সম্প্রতি ঘটে যাওয়া পরিবর্তনগুলোর সংক্ষিপ্ত চিত্র নিম্নের টেবিলে দেওয়া হলো—
| সূচক | বিস্তারিত তথ্য | মন্তব্য |
|---|---|---|
| বোর্ডের নেতৃত্ব | ২০ মাসে ৩ জন চেয়ারম্যান: ফারুক, বুলবুল, তামিম | তাড়াহুড়ো এবং রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে |
| নির্বাচনী অস্থিরতা | বুলবুলের কমিটি ভেঙেছে এনএসসি দ্বারা | অনিয়ম ও দুর্বল নির্বাচন প্রক্রিয়া |
| বর্তমান কমিটি | ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি, নেতৃত্বে তামিম ইকবাল | সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত, তবে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নেই |
| খেলোয়াড়ের প্রতিক্রিয়া | আফতাব আহমেদ সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ | “বিসিবি এখন সার্কাস” মন্তব্য সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু |
| মিডিয়ার ভূমিকা | বিস্তৃত প্রচার ও সংবাদ আড়ালে তথ্য পৌঁছে | সাধারণ মানুষ তথ্য সহজে জানতে পারে, কিন্তু বাস্তব সমস্যা অমীমাংসিত |
| সামগ্রিক অবস্থা | ক্রিকেট কার্যক্রম স্থগিত, প্রশাসনিক অস্থিরতা | দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত |
সারসংক্ষেপে, আফতাব আহমেদের মন্তব্যের মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, বিসিবির বর্তমান পরিস্থিতি ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ডের বদলে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কেলেঙ্কারিতে সীমাবদ্ধ। দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা ন্যায্য ও স্থিতিশীল প্রশাসন প্রত্যাশা করছেন, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকের স্বার্থে কার্যকর নীতি গ্রহণ করা হবে।
এবারের পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করছে যে, শুধুমাত্র নির্বাচনী পরিবর্তন বা অ্যাডহক কমিটি নিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না; বরং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার, স্বচ্ছতা ও দক্ষ প্রশাসন নিশ্চিত করাই দেশের ক্রিকেটকে পুনরায় সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার একমাত্র উপায়।
