বিসিএল ফাইনাল: মধ্যাঞ্চলের আধিপত্যে ধরা দিল দ্বিতীয় শিরোপা

মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ৫০ ওভারের আসরের ফাইনালে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখে শিরোপা ঘরে তুলেছে মধ্যাঞ্চল। উত্তরাঞ্চলের দেওয়া ২৩৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৫ উইকেটের বড় ব্যবধানে জয় পায় তারা। ১২ ওভার হাতে রেখেই এই দাপুটে জয় নিশ্চিত করে মধ্যাঞ্চল, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে দলটির দ্বিতীয় শিরোপা। পুরো ম্যাচে সাইফ হাসান ও মোহাম্মদ নাঈমের অনবদ্য ব্যাটিং এবং রিপন মণ্ডলের নিয়ন্ত্রিত বোলিং মধ্যাঞ্চলকে একপেশে জয়ের স্বাদ দিয়েছে।

ম্যাচের গতিপ্রকৃতি ও উত্তরাঞ্চলের ব্যাটিং বিপর্যয়

মিরপুরের উইকেটে দিবা-রাত্রির ফাইনাল ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন মধ্যাঞ্চলের অধিনায়ক। অসুস্থতার কারণে টপ অর্ডার ব্যাটার লিটন দাসকে ছাড়াই মাঠে নামতে হয় উত্তরাঞ্চলকে। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে তারা। নাজমুল হোসেন শান্তর ৩৫ এবং সাব্বির রহমানের ২৪ রান ইনিংসের ভিত গড়তে ব্যর্থ হয়। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে অনবদ্য লড়াই চালিয়ে যান তাওহিদ হৃদয়। ৯৮ বলে ৯৬ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ৮টি চার ও ১টি ছক্কার মার ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৪ রান দূরে থাকতে ইনিংসের শেষ ব্যাটার হিসেবে তিনি আউট হন। মধ্যাঞ্চলের হয়ে তরুণ পেসার রিপন মণ্ডল ৪১ রানে ৪ উইকেট শিকার করে প্রতিপক্ষকে বড় সংগ্রহ গড়তে বাধা দেন।

ফাইনালে দুই দলের পারফরম্যান্স চিত্র

বিভাগউত্তরাঞ্চলমধ্যাঞ্চল
মোট রান২৩৮ (৪৯.৩ ওভার)২৩৯/৫ (৩৮ ওভার)
সেরা ব্যাটারতাওহিদ হৃদয় (৯৬)সাইফ হাসান (৮৭)
দ্বিতীয় সেরা ব্যাটারনাজমুল হোসেন শান্ত (৩৫)মোহাম্মদ নাঈম (৭৮)
সেরা বোলারনাহিদ রানা (২/৬১)রিপন মণ্ডল (৪/৪১)
ফলাফল৫ উইকেটে জয়ী

মধ্যাঞ্চলের রান তাড়া ও নাঈম-সাইফের তণ্ডবলীলা

২৩৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মধ্যাঞ্চল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল। দ্বিতীয় উইকেটে সাইফ হাসান ও মোহাম্মদ নাঈম মিলে গড়ে তোলেন ১৪৪ রানের বিশাল এক জুটি। নাঈম ৮৭ বলে ৭৮ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরলেও সাইফ আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন। তিনি ৭৮ বলে ৮৭ রান করেন। যদিও ব্যক্তিগত শতকের মাইলফলক ছোঁয়ার আগেই দুজন বিদায় নেন, তবে ততক্ষণে জয়ের পথ প্রশস্ত হয়ে যায়। মাঝপথে দ্রুত তিনটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়লেও ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়নি মধ্যাঞ্চল। ৩৯তম ওভারের প্রথম বলটি ওয়াইড হওয়ার সাথে সাথেই উল্লাসে ফেটে পড়ে মধ্যাঞ্চল শিবির।

সিরিজ প্রস্তুতির মহড়া

বিসিবি এই টুর্নামেন্টকে মূলত আসন্ন পাকিস্তান সিরিজের প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচনা করেছে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয় দল রেকর্ড সংখ্যক ২২টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের আগে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৯-এর মধ্যে থেকে সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করার যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তার শুরুটা হবে ১১ মার্চ পাকিস্তানের বিপক্ষে। মিরপুরের এই ফাইনাল ম্যাচটি দিবা-রাত্রির হওয়ার কারণে ক্রিকেটাররা কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছেন। বিশেষ করে রিপন মণ্ডলের বোলিং এবং সাইফ-নাঈমের ফর্ম নির্বাচকদের জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে এনেছে।

শিরোপা জয়ের পর উচ্ছ্বসিত নাঈম শেখ গ্যালারির স্বল্প সংখ্যক দর্শকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিসিএলের পঞ্চম আসরের এই শিরোপা জয় মধ্যাঞ্চলকে ঘরোয়া ক্রিকেটে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেল। অন্যদিকে, তাওহিদ হৃদয়ের একক লড়াই ব্যর্থ হলেও তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স জাতীয় দলের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।