ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মূল ড্র অনুষ্ঠান এবার আর শুধুই আনুষ্ঠানিক একটি আয়োজন নয়, বরং তা রূপ নিতে যাচ্ছে এক জমকালো বৈশ্বিক বিনোদনমুখর উৎসবে। আগামী শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির ঐতিহাসিক জন এফ. কেনেডি সেন্টারে বসছে এই বহুল প্রতীক্ষিত ড্র। যেখানে ফুটবলের উত্তেজনার সঙ্গে একসঙ্গে মিলবে আলো, সুর, তারকা আর শোবিজের ঝলক। আয়োজকদের লক্ষ্য স্পষ্ট—বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শকের কাছে এই ড্র অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করে তোলা।
এবারের ড্র অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় থাকছেন বিশ্বের দুই জনপ্রিয় তারকা। একজন সুপারমডেল, প্রযোজক ও এমি-জয়ী টেলিভিশন আইকন হাইডি ক্লুম, অন্যজন হলিউডের বহুল পরিচিত কৌতুক অভিনেতা কেভিন হার্ট। দুজনেরই আন্তর্জাতিক খ্যাতি এমন যে, ফিফা ক্রীড়া আয়োজনের গণ্ডি ছাড়িয়ে ড্র অনুষ্ঠানকে শোবিজের বড় মঞ্চে পরিণত করতে চাইছে। তাদের প্রাণবন্ত উপস্থাপনা অনুষ্ঠানে বাড়তি বিনোদনের রসদ যোগ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
মঞ্চে আরও উপস্থিত থাকবেন মার্কিন অভিনেতা ও প্রযোজক ড্যানি রামিরেজ। তরুণ দর্শকদের কাছে তার জনপ্রিয়তা এই আয়োজনে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই আয়োজকদের বিশ্বাস। শুধু উপস্থাপক কিংবা অতিথি উপস্থিতিতেই নয়, ড্র অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়েছে বিশ্বমানের সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে।
বিশ্ববিখ্যাত ধ্রুপদী সংগীতশিল্পী আন্দ্রে বোসেল্লি বিশেষ পরিবেশনা তুলে ধরবেন এই মঞ্চে। তার সঙ্গে থাকবেন ব্রিটিশ পপ তারকা রবি উইলিয়ামস এবং মার্কিন গায়িকা ও বহু পুরস্কারজয়ী নিকোল শেরজিঙ্গার। আলো, সুর আর মঞ্চসজ্জার মেলবন্ধনে এই পরিবেশনাগুলো বিশ্বকাপ ইতিহাসে ড্র অনুষ্ঠানের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ড্র শেষে দর্শকদের জন্য থাকছে আরও বড় চমক। বিশ্ববিখ্যাত পপ ব্যান্ড ভিলেজ পিপল পরিবেশন করবে তাদের কালজয়ী গান ‘ওয়াই.এম.সি.এ’। বিশ্বকাপের উন্মাদনার আবহে এই গানের সঙ্গে হাজারো দর্শকের কণ্ঠ মিলিয়ে গলা মেলানো যেন পুরো আয়োজনকে পরিণত করবে এক বিশাল উৎসবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবার কারা ড্র পট থেকে বল তোলার দায়িত্বে থাকবেন—সে তথ্য এখনও প্রকাশ করেনি ফিফা। আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই তালিকা পরবর্তীতে জানানো হবে, যা দর্শকদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশেষ এই ড্র অনুষ্ঠান বিশ্বব্যাপী টেলিভিশন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। তিনটি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—মিলিয়ে ৪৮ দলের মহাযজ্ঞের যাত্রা শুরু হবে এই ড্র দিয়েই। ফলে শুক্রবারের এই রাতটি শুধু বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক সূচনা নয়, বরং ফুটবল ও বিনোদনের এক ঐতিহাসিক মিলনমেলায় পরিণত হতে যাচ্ছে—যা দীর্ঘদিন স্মরণে থাকবে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে।
