বিশ্বজুড়ে ২৬ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব জন্মনিয়ন্ত্রণ দিবস, যার মূল উদ্দেশ্য হলো অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। এ প্রেক্ষিতে, পিরিয়ডের আগে ও পরে নিরাপদ সহবাসের সময় সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা অত্যন্ত জরুরি।

Table of Contents
স্পার্মের স্থায়িত্ব ও গর্ভধারণের সম্ভাবনা
সহবাসের পর পুরুষের শুক্রাণু নারীর জরায়ুতে সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে। এই সময়ের মধ্যে যদি ডিম্বাণু উপস্থিত থাকে, তাহলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকে। তবে এই সময়সীমা শরীরভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।

ডিম্বাণু উৎপাদন ও উর্বর সময় (Fertile Window)
সাধারণত ২৮ দিনের মাসিক চক্র অনুযায়ী, পিরিয়ড শুরুর ১৪তম দিন ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়। এই ডিম্বাণু ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। এই সময়কে বলা হয় উর্বর উইন্ডো, যা সাধারণভাবে পিরিয়ড শুরুর ৯ম থেকে ১৯তম দিনের মধ্যে পড়ে। এই সময় সহবাস করলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা সর্বোচ্চ থাকে।

নিরাপদ সহবাসের সময় নির্ধারণ
যারা গর্ভধারণ এড়াতে চান, তাদের জন্য সাধারণভাবে পিরিয়ড শুরুর প্রথম ৮ দিন এবং ২০তম দিন থেকে পরবর্তী পিরিয়ড পর্যন্ত সময়কে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ধরা হয়। তবে, এই পদ্ধতি শুধুমাত্র নিয়মিত মাসিক চক্র থাকলেই কার্যকর। অনিয়মিত চক্রের ক্ষেত্রে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বাইরে বীর্যপাত ও গর্ভধারণের ঝুঁকি
অনেকে বিশ্বাস করেন, সহবাসের সময় বীর্যপাত বাইরে করলে গর্ভধারণ হবে না। কিন্তু প্রাক–স্খলনের মাধ্যমে নির্গত শুক্রাণুও গর্ভধারণ ঘটাতে পারে। ফলে, এটি কোনো নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নয়।
জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা
অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ এড়াতে কনডম, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, ইনজেকশন, আইইউডি ইত্যাদি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত। অরক্ষিত সহবাসের পর জরুরি গর্ভনিরোধক বড়ি (যেমন: আই-পিল) ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সেবন করলে তা কার্যকর হতে পারে।
সচেতনতা ও সঠিক তথ্যের গুরুত্ব
পিরিয়ডের আগে ও পরে নিরাপদ সহবাসের সময় সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা এবং উপযুক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করা অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর। এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সঠিক তথ্যের প্রচার জরুরি, বিশেষ করে প্রজনন স্বাস্থ্য ও যৌনশিক্ষা নিয়ে যেসব সামাজিক ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে, তা দূর করতে।
