বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তেল রপ্তানিকারক ৫ দেশ

বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে জ্বালানি তেল বা ‘ব্ল্যাক গোল্ড’ একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে। এটি কেবল শক্তি ও শিল্পের চালিকাশক্তি নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সমীকরণও নির্ধারণ করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তেল রপ্তানিতে প্রতিযোগিতা তীব্র এবং দেশগুলো এ শিল্পের ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে নির্ভরশীল।

ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ ও ইনভেস্টোপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যে নতুন সমীকরণ সৃষ্টি করেছে। রপ্তানি আয়ের ভিত্তিতে বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি তেল রপ্তানিকারক দেশ হলো:

অবস্থানদেশদৈনিক রপ্তানি (মিলিয়ন ব্যারেল, ২০২৪)২০২৩ সালের রপ্তানি আয় (বিলিয়ন ডলার)প্রধান গন্তব্য
সৌদি আরব৬.০১৩৫এশিয়া, ইউরোপ
রাশিয়া৪.৫১২২চীন, ভারত
যুক্তরাষ্ট্র৪.১১২৫ইউরোপ, এশিয়া
কানাডা৩.৬১০৭যুক্তরাষ্ট্র
সংযুক্ত আরব আমিরাত২.৭৯৯এশিয়া, ইউরোপ

সৌদি আরব: বিশ্ব তেল রপ্তানিতে দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষে থাকা সৌদি আরবের মোট প্রমাণিত তেল মজুদের প্রায় ১৭ শতাংশ দেশটির দখলে। ২০২৪ সালে দেশটি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, একই বছরে সৌদি আরবের দৈনিক তেল উৎপাদন ছিল ১১.১৩ মিলিয়ন ব্যারেল।

রাশিয়া: ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তির কারণে নানা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়লেও বিশাল তেল মজুদের কারণে রাশিয়া বিশ্ববাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। ২০২৪ সালে দেশটি প্রতিদিন গড়ে ৪.৫ মিলিয়ন ব্যারেল রপ্তানি করেছে। প্রধান রপ্তানি গন্তব্য এখন এশিয়ার দেশগুলি, বিশেষ করে চীন ও ভারত।

যুক্তরাষ্ট্র: ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক তেল রপ্তানি ৪.১ মিলিয়ন ব্যারেল। বিশেষ করে ইউরোপীয় বাজারে রাশিয়ার স্থান নেওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটির রপ্তানি আয় প্রায় ১২৫ বিলিয়ন ডলার।

কানাডা: কানাডার ‘অয়েল স্যান্ডস’ দেশটিকে চতুর্থ স্থানে নিয়ে এসেছে। দেশটি প্রতিদিন গড়ে ৩.৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করে, যার ৯০ শতাংশই যায় যুক্তরাষ্ট্রে। ২০২৩ সালে কানাডার রপ্তানি আয় ছিল ১০৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

সংযুক্ত আরব আমিরাত: প্রতিদিন ২.৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করা সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২৪ সালে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। ২০২৩ সালে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৯৯ বিলিয়ন ডলার। যদিও দেশটির অর্থনীতি এখন তেলের ওপর কম নির্ভরশীল, তবুও তেল ও গ্যাস এখনও জিডিপির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

উপরোক্ত পাঁচ দেশের পাশাপাশি ইরাক, ব্রাজিল, নরওয়ে ও নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলোও বৈশ্বিক তেল বাজারে উল্লেখযোগ্য অবস্থান ধরে রেখেছে। তেলের আন্তর্জাতিক চাহিদা ও মূল্য ওঠানামা, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কারণে এই বাজার ভবিষ্যতেও প্রতিযোগিতামূলক থাকবে।