বিশ্বব্যাপী মোবাইল ফোন বিমা বাজার দ্রুত সম্প্রসারণের পথে এগোচ্ছে এবং পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৯ সালের মধ্যে এ বাজারের মোট মূল্য ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি ছাড়িয়ে যাবে। সামগ্রিক বিমা ও আর্থিক সেবা খাতের তুলনায় আকারে তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও, স্মার্টফোন ব্যবহার ও ভোক্তা আচরণে মৌলিক পরিবর্তনের কারণে এই খাতটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিশেষায়িত বাজার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।
গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোনের গড় মূল্য ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে, বিশেষ করে প্রিমিয়াম ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মডেলগুলোর ক্ষেত্রে। ভাঁজযোগ্য ডিসপ্লে, উন্নত ক্যামেরা ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ফিচার এবং শক্তিশালী প্রসেসরের মতো প্রযুক্তি সংযোজনের ফলে এসব ডিভাইসের দাম যেমন বেড়েছে, তেমনি মেরামত ও প্রতিস্থাপনের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলস্বরূপ, সম্ভাব্য আর্থিক ঝুঁকি কমাতে ভোক্তারা আগের তুলনায় বেশি হারে বিমা সুরক্ষার দিকে ঝুঁকছেন, যা প্রিমিয়াম আয়ের প্রবৃদ্ধিকে শক্তিশালী করছে।
বিশ্বের সম্পত্তি ও ক্ষয়ক্ষতি বিমা বাজারের আনুমানিক আকার প্রায় ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলার এবং সামগ্রিক আর্থিক সেবা বাজার ২০২৯ সালের মধ্যে প্রায় ৪৭.৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে মোবাইল ফোন বিমা বাজারের অংশ মাত্র সামান্য হলেও এর প্রবৃদ্ধির হার অনেক প্রচলিত বিমা পণ্যের তুলনায় বেশি। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, ব্যক্তিগত প্রযুক্তি সুরক্ষায় ভোক্তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে একটি কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটছে।
অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, উত্তর আমেরিকা বাজারের নেতৃত্ব ধরে রাখবে। ২০২৪ সালে যেখানে এই অঞ্চলের প্রিমিয়াম আয় ছিল আনুমানিক ১২.৪ বিলিয়ন ডলার, সেখানে ২০২৯ সালে তা বেড়ে প্রায় ২০.২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। উচ্চ স্মার্টফোন ব্যবহারের হার, প্রিমিয়াম ডিভাইসের জনপ্রিয়তা এবং বিমা সম্পর্কে সচেতনতা এ প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি। অন্যদিকে, এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল বাজার হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। চীন, ভারত ও দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ায় স্মার্টফোন গ্রহণের হার বৃদ্ধি, মধ্যবিত্ত শ্রেণির সম্প্রসারণ এবং উচ্চমূল্যের ফোনের চাহিদা বিমা পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াচ্ছে।
পণ্যের ধরন অনুযায়ী, প্রিমিয়াম স্মার্টফোন বিমা বাজারে প্রাধান্য বিস্তার করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৯ সালে এই খাত মোট প্রিমিয়ামের প্রায় ৫৪ শতাংশ দখল করতে পারে। কভারেজের ক্ষেত্রে দৈহিক ক্ষয়ক্ষতি সুরক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্ক্রিন ভাঙা, দুর্ঘটনাজনিত পতন ও দৈনন্দিন ব্যবহারে ক্ষতির ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি ঘটে।
বিতরণ ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আসছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটররা ফোন বিক্রি ও সাবস্ক্রিপশনের সঙ্গে বিমা প্যাকেজ যুক্ত করে বাজারের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এতে গ্রাহক সংগ্রহ ব্যয় কমে এবং দাবি নিষ্পত্তির দক্ষতা বাড়ে।
২০২৯ সালের জন্য বৈশ্বিক মোবাইল ফোন বিমা বাজারের পূর্বাভাস
| খাত | আনুমানিক মূল্য | বাজার অংশ |
|---|---|---|
| মোট বৈশ্বিক বাজার | ৭০ বিলিয়ন ডলারের বেশি | ১০০% |
| উত্তর আমেরিকা | ২০.২ বিলিয়ন ডলার | বৃহত্তম অঞ্চল |
| প্রিমিয়াম স্মার্টফোন বিমা | ৩৭.৮ বিলিয়ন ডলার | ৫৪% |
| দৈহিক ক্ষয়ক্ষতি কভারেজ | ২২.৬ বিলিয়ন ডলার | ৩২% |
| অপারেটর-নির্ভর বিতরণ | ২৩.৩ বিলিয়ন ডলার | ৩৩% |
সার্বিকভাবে, স্মার্টফোন ব্যক্তিগত ও অর্থনৈতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠায় বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মোবাইল ফোন বিমা খাত আগামী বছরগুলোতে বৈশ্বিক বিমা শিল্পের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল বিশেষায়িত খাতে পরিণত হবে।
