বিশ্বের প্রভাবশালী অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সুষম বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখতে না পারায় বাংলাদেশ বর্তমানে এক গভীর বাণিজ্যঝুঁকির মুখে পড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং বৈশ্বিক অস্থিরতা এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ এবং রপ্তানি বাণিজ্যের সীমাবদ্ধতা এই হুমকিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে চীনের সঙ্গে সম্পর্কের শুরুতে ইতিবাচক ইঙ্গিত থাকলেও বর্তমানে বেইজিং বেশ সতর্ক অবস্থানে চলে গেছে। এলডিসি উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়ে চীন এখনও কোনো লিখিত প্রতিশ্রুতি দেয়নি। অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। স্থলপথে পণ্য আমদানিতে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় চালের মতো নিত্যপণ্য এখন ভারত থেকে না এনে সিঙ্গাপুর থেকে অনেক বেশি দামে আমদানি করতে হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারে।
জাপানের সঙ্গেও প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। টোকিও দাবি করছে যে, যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশ যেসব বাণিজ্যিক সুবিধা দিচ্ছে, জাপানি বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রেও সমপরিমাণ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে তুষ্ট করতে বোয়িং বিমান কেনার প্রতিশ্রুতির পর ইউরোপের পক্ষ থেকে এয়ারবাস কেনার আগের প্রতিশ্রুতি রক্ষার দাবি জানানো হচ্ছে। জার্মান রাষ্ট্রদূত সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হলে বাংলাদেশের জন্য ভবিষ্যতে জিএসপি প্লাস শুল্ক সুবিধা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. এম কে মুজেরী মনে করেন, বর্তমান সরকারের তড়িঘড়ি নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো দেশের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য স্বার্থকে ব্যাহত করতে পারে। ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক কূটনীতি বজায় রাখতে না পারলে কেবল বর্তমান অর্থনীতি নয়, বরং ভবিষ্যৎ সরকারকেও বিশাল আর্থিক ও কৌশলগত খেসারত দিতে হবে। আন্তর্জাতিক মহলে আস্থা অর্জনে আরও পেশাদার ও দূরদর্শী নীতির প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
জিলাইভ/টিএসএন
