টানা দুইবার বিশ্বকাপ খেলতে ব্যর্থ হওয়া চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি ফুটবল বিশ্বে এক অদ্ভুত ট্র্যাজেডির মুখোমুখি। এই আক্ষেপ মোছার দায়িত্ব এবার কাঁধে নিয়েছেন জেনারো গাত্তুসো, যিনি ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফের সামনে ২৮ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন। এই স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় চমক হচ্ছে লিভারপুলের ফরোয়ার্ড ফেদেরিকো কিয়েসা-এর ফিরতি ডাক।
কিয়েসা ইউরো ২০২১-এর শিরোপা জেতার নায়ক হলেও ইউরো ২০২৪-এর শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ডের কাছে হারের পর নীল জার্সিতে মাঠে নামেননি। তার অভিজ্ঞতা এবার ইতালির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইতালির প্রথম প্লে-অফ ম্যাচ ২৬ মার্চ বার্গামোর মাঠে উত্তর আয়ারল্যান্ড এর বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। এই লড়াই সহজ নয়; জয় পেলে ৩১ মার্চ ওয়েলস বনাম বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা-এর মধ্যকার জয়ীর সঙ্গে দ্বৈরথে নামবে ইতালি। এই দ্বিতীয় ম্যাচের জয় নিশ্চিত করলেই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো-এর ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত হবে। হারলে ইতালি হবে টানা তিনবার বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার লজ্জাজনক ইতিহাসের অংশ।
দলের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি গাত্তুসো আস্থা রেখেছেন তরুণ প্রতিভার ওপর। ইউরো ২০২৪-এর আগে হাঁটুর চোটের কারণে ছিটকে যাওয়া ২২ বছর বয়সী আতালান্তার সেন্টার-ব্যাক জর্জিও স্কালভিনি ফিরেছেন। নতুন অভিষেক হতে যাচ্ছে ক্যালিয়ারির ২১ বছর বয়সী ডিফেন্ডার মার্কো পালেস্ত্রা এবং রোমার তরুণ মিডফিল্ডার নিকোলো পিসিলিও-র জন্য।
গোলপোস্টে কিছুটা চাপ রয়েছে। টটেনহামের গোলরক্ষক গুগলিয়েলমো ভিকারিও হার্নিয়া অপারেশনের কারণে বাদ পড়েছেন। তবে তিনি নটিংহাম ফরেস্টের বিপক্ষে অবনমন এড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যথা নিয়েই খেলবেন এবং পরে অস্ত্রোপচারের টেবিলে যাবেন। ফলে ইতালির সকল গোলবারের দায়িত্ব এখন ম্যানচেস্টার সিটির জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা-র ওপর এসে পড়েছে।
ইতালির ২৮ সদস্যের প্লে-অফ স্কোয়াড (প্রধান বিষয়গুলো)
| পজিশন | খেলোয়াড় | বয়স | ক্লাব |
|---|---|---|---|
| ফরোয়ার্ড | ফেদেরিকো কিয়েসা | 25 | লিভারপুল |
| সেন্টার-ব্যাক | জর্জিও স্কালভিনি | 22 | আতালান্তা |
| ডিফেন্ডার | মার্কো পালেস্ত্রা | 21 | ক্যালিয়ারি |
| মিডফিল্ডার | নিকোলো পিসিলিও | 21 | রোমা |
| গোলরক্ষক | জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা | 27 | ম্যানচেস্টার সিটি |
গাত্তুসোর এই ‘বাঁচা-মরার’ মিশন শুধু ইতালির ফুটবলের জন্য নয়, সমগ্র দেশবাসীর জন্য এক আবেগঘন মুহূর্ত। প্লে-অফে কিয়েসার অভিজ্ঞতা ও তরুণদের উদ্যম মিলিয়ে দল যেন ২০২৬ বিশ্বকাপের ট্র্যাজেডি কাটিয়ে ওঠে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে, ইতালির জন্য এই প্লে-অফ ম্যাচগুলো কেবল জয় বা পরাজয় নয়, বরং জাতীয় ফুটবলের মর্যাদা ও গৌরব ফিরিয়ে আনার এক চূড়ান্ত পরীক্ষা।
