২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থার উদ্বেগ মূলত তিনটি আয়োজক দেশ — যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো — এর মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েই। সংস্থার মতে, যারা স্টেডিয়ামে বসে ম্যাচ দেখার পরিকল্পনা করছেন, তারা ‘উদ্বেগজনক মানবাধিকার লঙ্ঘন’ বা কঠোর বিধিনিষেধের মুখোমুখি হতে পারেন।
অ্যামনেস্টির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিফা ও আয়োজকদের প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও বিশ্বকাপকে “নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং হৃদয়গ্রাহী” করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সংস্থার ভাষায়, মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার কঠোরভাবে সীমিত হওয়ায় টুর্নামেন্টের পরিবেশ ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আয়োজক দেশগুলোর মানবাধিকার পরিস্থিতি
| দেশ | প্রধান উদ্বেগ | অবস্থার বিস্তারিত | নিরাপত্তা ব্যবস্থা |
|---|---|---|---|
| যুক্তরাষ্ট্র | বৈষম্যমূলক অভিবাসন নীতি | আইসিই ও সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর মাস্কধারী এজেন্টরা গ্রেপ্তার ও আটকাচ্ছেন | হোয়াইট হাউসের টাস্কফোর্স তদারকি করছে |
| মেক্সিকো | সহিংসতা দমন | প্রায় এক লাখ সেনা ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন | ম্যাচ চলাকালীন সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি বৃদ্ধি |
| কানাডা | গৃহহীনদের অধিকার | টরন্টোর ‘উইন্টার ওয়ার্মিং সেন্টার’ বন্ধ | ফিফার ইভেন্টের জন্য স্থান সংরক্ষণের কারণে |
অ্যামনেস্টি বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশ্বকাপে ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৭৮টি যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে। সংস্থার মতে, দেশটির আইসিই ও সিবিপি’র মাধ্যমে গণগ্রেপ্তার এবং সীমান্তে বাধ্যতামূলক আটক কার্যক্রম “আধা সামরিক অভিযান” হিসাবে চিহ্নিত। এই নীতি অভিবাসীদের মধ্যে ভয় ও বিভাজন তৈরি করছে।
সংস্থার স্টিভ ককবার্ন বলেছেন, “২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঁচ লাখের বেশি মানুষকে দেশান্তর করা হয়েছে। এটি মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল দেখার দর্শকের তুলনায় প্রায় আট গুণ বেশি।” তিনি আরও বলেন, “আইনগত সুরক্ষা দুর্বল হওয়ায় দেশান্তরের রেকর্ড ভাঙা হচ্ছে, যা ভ্রমণকারী সমর্থক এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক।”
সমর্থকদের জন্য ভিসা ও নিরাপত্তা
বিশ্বকাপের জন্য কিছু দেশের সমর্থকদের ভিসা প্রক্রিয়া কঠোর করা হয়েছে। পর্যটক ভিসার জন্য ‘বন্ড’ হিসেবে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জমা দিতে হতে পারে। নতুন পাইলট প্রোগ্রামটি ৫০টি দেশের নাগরিকদের ওপর প্রযোজ্য, যার মধ্যে আলজেরিয়া, কেপ ভার্দে, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট ও তিউনিসিয়া রয়েছে। এর ফলে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা ছোট দেশগুলো, যেমন কেপ ভার্দে, তাদের সমর্থকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৬টি আয়োজক শহরের মধ্যে মাত্র ৪টি মানবাধিকার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, এবং তাতেও অভিবাসী ও শ্রমিকদের সুরক্ষার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই।
সংক্ষেপে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে যে ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলোতে মানবাধিকার ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় উদ্বেগ বিদ্যমান, যা ফিফা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা দাবি করছে।
এই রিপোর্ট থেকে বোঝা যায়, বিশ্বকাপের আনন্দের পেছনে রাজনৈতিক ও মানবাধিকারগত চ্যালেঞ্জও সমান্তরালভাবে বিরাজ করছে।
