মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে পারবে কি না—তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক হামলার পর দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এতটাই অস্থির হয়ে উঠেছে যে, ক্রীড়াঙ্গনে স্বাভাবিক প্রত্যাশা করা কঠিন। তাঁর ভাষায়, দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত এসেছে এবং এ ধরনের ঘটনার যথাযথ জবাব দেওয়া হবে। ফলে ফুটবলসহ অন্যান্য ক্রীড়া কার্যক্রমও এখন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত বিবেচনার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত হয়ে পড়েছে।
সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমেও একই ধরনের বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ নিয়ে স্বাভাবিক পরিকল্পনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া প্রশাসকরা। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিলম্বিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এর ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে।
খামেনির মৃত্যুতে ইরানে চলমান ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। এই সময়ে সব ধরনের ক্রীড়া কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে ঘরোয়া লিগ এবং আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি ম্যাচগুলো বন্ধ থাকায় খেলোয়াড়দের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে। এটি বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে দলের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকেরা।
অন্যদিকে, ইরানের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে, যেখানে বিদেশি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব স্থানেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে।
এই উত্তেজনার প্রভাব শুধু ফুটবলেই সীমাবদ্ধ নেই; ক্রিকেট, মোটরচালিত প্রতিযোগিতা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়াও এর প্রভাবের বাইরে থাকেনি। ফলে ক্রীড়াবিশ্বে এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
আসন্ন বিশ্বকাপে ইরানের নির্ধারিত সূচিও ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। নিচে তা সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| ম্যাচ | প্রতিপক্ষ | তারিখ | ভেন্যু |
|---|---|---|---|
| প্রথম ম্যাচ | নিউজিল্যান্ড | ১৫ জুন | ক্যালিফোর্নিয়া |
| দ্বিতীয় ম্যাচ | বেলজিয়াম | ২১ জুন | ক্যালিফোর্নিয়া |
| তৃতীয় ম্যাচ | মিসর | ২৬ জুন | সিয়াটল |
উল্লেখ্য, এই বিশ্বকাপ ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যা যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা।
সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ইরানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ এখন বড় প্রশ্নের মুখে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ক্রীড়াক্ষেত্রেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
