বিশ্বকাপে অংশ নিতে হলে ভারতেই যেতে হবে বাংলাদেশকে: আইসিসি

২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র চার সপ্তাহ আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অংশগ্রহণ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো আয়োজন করা নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) যে আপত্তির কথা জানিয়েছিল, তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ক্রিকেট বিষয়ক প্রভাবশালী ওয়েবসাইট ইএসপিএন-ক্রিকইনফোর তথ্যমতে, গত পরশু অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে আইসিসি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে টাইগারদের ভারতেই যেতে হবে, অন্যথায় পয়েন্ট হারানোসহ কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে বিসিবি।

সংকটের সূত্রপাত ও নেপথ্য কারণ

এই সংকটের মূলে রয়েছে মোস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনা। গত ডিসেম্বরের আইপিএল নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজকে দলে নিলেও পরবর্তীতে বিসিসিআইয়ের মৌখিক নির্দেশে তাকে বাদ দেওয়া হয়। বিসিসিআই সচিব দেবজিত সাইকিয়া এই সিদ্ধান্তের কথা জানালেও এর কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা দেননি। এই ঘটনার পর বিসিবি দাবি করে, ভারতে বাংলাদেশি ক্রিকেটার ও সমর্থকদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই। ফলে তারা ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে আইসিসিকে চিঠি দেয়।

নিচে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের নির্ধারিত ম্যাচগুলোর সময়সূচি ও ভেন্যু সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো:

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের রূপরেখা

ম্যাচের তারিখপ্রতিপক্ষভেন্যু (শহর)বর্তমান অবস্থা
০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ওয়েস্ট ইন্ডিজকলকাতাভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে আইসিসির অনড় অবস্থান।
০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ইতালিকলকাতাবিসিবির পক্ষ থেকে নিরাপত্তার শঙ্কা প্রকাশ।
১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ইংল্যান্ডকলকাতাসরকারি সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় বিসিবি।
১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬নেপালমুম্বাইঅংশগ্রহণ না করলে পয়েন্ট হারাবে বাংলাদেশ।

বিসিবির অবস্থান ও সরকারের ভূমিকা

আইসিসি কঠোর বার্তা দিলেও বিসিবি দাবি করেছে, তাদের কোনো চূড়ান্ত ‘আলটিমেটাম’ দেওয়া হয়নি। তবে বিসিবির অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, তারা ভারতের মাটিতে দল পাঠানোর বিষয়ে এখনও দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে। বিসিবির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মোস্তাফিজ ইস্যুটি কেবল খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন জাতীয় সম্মানের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সরকার যদি মনে করে ভারতে দল পাঠানো নিরাপদ, কেবল তখনই বিসিবি তাদের অবস্থানে পরিবর্তন আনবে। আইসিসি মনে করে, ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে নির্ধারিত সূচি পরিবর্তন করা টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত কাঠামোর জন্য ক্ষতিকর।

জটিল হয়ে উঠছে সমীকরণ

২০ দলের এই বৃহৎ আসর ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে চলবে ৮ মার্চ পর্যন্ত। গ্রুপ ‘সি’-তে থাকা বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ কলকাতায় হওয়ায় ভৌগোলিক সুবিধা থাকলেও নিরাপত্তার অজুহাতে বিসিবি এখনও অনড়। যদি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ দল ভারতে না যায়, তবে আইসিসি বাংলাদেশকে ছাড়াই টুর্নামেন্ট এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করতে পারে, যা দেশের ক্রিকেটের জন্য হবে এক অপূরণীয় ক্ষতি। এখন দেখার বিষয়, আইসিসি ও বিসিবির এই দ্বন্দ্বে কূটনীতি কোনো সমাধান দিতে পারে কি না।