বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেন ইরান ফুটবলের সভাপতি

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবারে অংশগ্রহণ নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফআইআরআই) সভাপতি মেহদি তাজ। ইরান নারী ফুটবল দলের কয়েকজন খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইরানের পক্ষ থেকে বিশ্বকাপ আয়োজন এবং অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল, যার আয়োজক তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। তবে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতি এই আসরকে ঘিরে নতুন জটিলতা তৈরি করেছে। ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে তীব্র রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। ইরান দাবি করেছে, যুদ্ধের শুরুতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি স্কুলে বোমা হামলায় বহু শিশু নিহত হয়েছে এবং এ হামলার দায় তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর চাপিয়েছে।

এই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেহদি তাজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানি খেলোয়াড়দের রাজনৈতিক আশ্রয়ের বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, মিনাব শহরে বোমা হামলায় ১৬০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দায়ী, অথচ এখন ইরানের নারী ফুটবলারদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা কীভাবে আশাবাদী হতে পারি?”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি বিশ্বকাপ আয়োজন অব্যাহত থাকে, তবে কোনো সুস্থ বিবেচনাসম্পন্ন দেশই কি তার জাতীয় দলকে এমন পরিবেশে পাঠাতে চাইবে—এই প্রশ্নও উঠে আসে।

২০২৬ বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্রুপে খেলবে ইরান। তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে বেলজিয়াম, মিসর ও নিউজিল্যান্ড। গ্রুপপর্বে ইরানের দুটি ম্যাচ লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং একটি ম্যাচ সিয়াটলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের গ্রুপ পরিস্থিতি

বিষয়তথ্য
গ্রুপজি
প্রতিপক্ষ দলবেলজিয়াম, মিসর, নিউজিল্যান্ড
ম্যাচ ভেন্যুলস অ্যাঞ্জেলেস (২টি), সিয়াটল (১টি)
বিশ্বকাপ শুরু১১ জুন ২০২৬
আয়োজক দেশযুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কানাডা

অন্যদিকে, নারী এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিল ইরান নারী ফুটবল দল। গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর দলের মোট সাতজন সদস্য অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় পান। তাঁদের মধ্যে ছয়জন খেলোয়াড় এবং একজন সহায়ক স্টাফ রয়েছেন। প্রথমে পাঁচজন এবং পরে আরও দুইজন আশ্রয় লাভ করেন।

এই ঘটনা ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের সময় জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় কিছু খেলোয়াড়কে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। অনেকের আশঙ্কা ছিল, দেশে ফিরে তারা শাস্তির মুখে পড়তে পারেন। সেই আশঙ্কা থেকেই কয়েকজন খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয়ের আবেদন করেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

তবে পরবর্তী দুটি ম্যাচে ইরানি খেলোয়াড়েরা জাতীয় সংগীত গেয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মেহদি তাজ দাবি করেন, নারী জাতীয় দলের সদস্যরা জাতীয় সংগীত গেয়েছেন এবং সামরিক স্যালুটও দিয়েছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পাঁচজন নারী খেলোয়াড়কে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে এবং দল অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের সময় পুলিশ হস্তক্ষেপ করেছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, হোটেল থেকে এক বা দুইজন খেলোয়াড়কে বের করে নেওয়া হয়েছিল। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে কূটনৈতিক ও মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে—রাজনৈতিক উত্তেজনা কি শেষ পর্যন্ত ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণে প্রভাব ফেলবে কি না।