ব্রাজিলীয় ফুটবল তারকা নেইমার জুনিয়রের জাতীয় দলে ফেরার পথ সুগম হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেলেসাওদের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য যে ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক দল গঠন করেছেন, সেখানে নেইমারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ) থেকে এখনো এই তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে ১৮ মে ২৬ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার কথা রয়েছে। নেইমারের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং শারীরিক সক্ষমতা তাকে আবারও হলুদ জার্সিতে দেখার সম্ভাবনা উজ্জ্বল করে তুলেছে।
ক্লাবে নেইমারের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স
দীর্ঘদিন ইনজুরির কবলে থাকা ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বর্তমানে তার শৈশবের ক্লাব সান্তোসের হয়ে মাঠে ঘাম ঝরাচ্ছেন। ব্রাজিলিয়ান লিগ সিরি ‘এ’-তে ব্রাগান্তিনোর বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে সান্তোস ২-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে। উক্ত ম্যাচে দলের হয়ে প্রথম গোলটি করেন নেইমার। মাঠে ৮২ মিনিট অবস্থান করে তিনি তার চিরাচরিত ড্রিবলিং ও সৃজনশীল ফুটবলের প্রদর্শনী করেন। এর আগে কোপা সুদামেরিকানায় রেসোলেটা এফসির বিপক্ষেও তিনি জালের দেখা পেয়েছিলেন।
নিচে সান্তোসের হয়ে চলতি মৌসুমে নেইমারের পরিসংখ্যানগত পারফরম্যান্সের একটি চিত্র তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | পরিসংখ্যান (চলতি মৌসুম) | গত ১৭ ম্যাচের রেকর্ড |
| মোট ম্যাচ | ১৩ টি | ১৭ টি |
| গোল সংখ্যা | ০৬ টি | ১১ টি |
| অ্যাসিস্ট | ০৩ টি | ০৪ টি |
| মাঠে প্রভাব | উচ্চ (প্রথম গোল দাতা) | ধারাবাহিকতা বজায় |
চোট থেকে উত্তরণ ও ফিটনেস চ্যালেঞ্জ
নেইমার সর্বশেষ ব্রাজিলের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে। এরপর গুরুতর চোটের কারণে তিনি দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে কাটাতে বাধ্য হন। কোচ কার্লো আনচেলত্তি শুরু থেকেই দলের শৃঙ্খলা এবং ফিটনেসের ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছেন। তার স্পষ্ট বার্তা ছিল—কেবলমাত্র শারীরিকভাবে শতভাগ ফিট এবং প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে সক্রিয় ফুটবলাররাই চূড়ান্ত দলে জায়গা পাবেন। এই কঠোর মানদণ্ডের কারণেই নেইমার গত কয়েকটি প্রীতি ম্যাচে সুযোগ পাননি। তবে বর্তমান লিগ ম্যাচে নিয়মিত গোল এবং দীর্ঘ সময় মাঠে সক্রিয় থাকা তার ফিটনেসের উন্নতির প্রমাণ দিচ্ছে।
দলে প্রভাব ও সতীর্থদের প্রত্যাশা
নেইমারের প্রত্যাবর্তন কেবল মাঠের কৌশলেই নয়, বরং ড্রেসিংরুমের মানসিক শক্তিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলের অন্যতম অভিজ্ঞ খেলোয়াড় হিসেবে তার উপস্থিতি তরুণ ফুটবলারদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। ব্রাজিলের বর্তমান উইঙ্গার রাফিনিয়াসহ অনেক সতীর্থই নেইমারের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। রাফিনিয়া জানান, নেইমারের মতো মানের খেলোয়াড় দলে থাকা সব সময় সহায়ক এবং তিনি চান নেইমার আবারও জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দিক।
উল্লেখ্য যে, ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নেইমার শীর্ষে অবস্থান করছেন। তার অভিজ্ঞতা এবং গোল করার ক্ষমতা আসন্ন বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে ব্রাজিলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এখন ফুটবল প্রেমীদের দৃষ্টি ১৮ মে’র দিকে, যেদিন জানা যাবে নেইমার চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে জায়গা করে নিতে পারছেন কি না। বর্তমান ছন্দ ধরে রাখতে পারলে নেইমারের জন্য ষষ্ঠ বিশ্বকাপ মিশনে অংশ নেওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার বলে মনে করা হচ্ছে।
