ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়রের আগামী এক বছরের ভবিষ্যৎ অবশেষে স্পষ্ট হলো। শৈশবের ক্লাব সান্তোসের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের মাধ্যমে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্লাবেই থাকছেন তিনি। এই সিদ্ধান্ত শুধু ক্লাব ক্যারিয়ারের দিক থেকেই নয়, বরং ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের স্বপ্ন পূরণের পথেও বড় এক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরেই নেইমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিল জল্পনা-কল্পনা। কখনো ইউরোপে ফেরার গুঞ্জন, কখনো আবার লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে ইন্টার মায়ামিতে পুনর্মিলনের খবর শোনা গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব গুঞ্জনে ইতি টেনে নেইমার বুঝিয়ে দিলেন—তার প্রধান লক্ষ্য এখন একটাই, পূর্ণ ফিট হয়ে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে ফেরা।
বর্তমানে হাঁটুর চোট-পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন ৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। গত নভেম্বর মাসে মেনিস্কাসে গুরুতর আঘাত পান তিনি। চিকিৎসকদের বিশ্রামের পরামর্শ উপেক্ষা করেও সান্তোসকে অবনমন থেকে বাঁচাতে ব্যথা নিয়েই মাঠে নামেন নেইমার। যদিও তার স্বাভাবিক গতি ও ক্ষিপ্রতায় কিছুটা ভাটা পড়েছিল, তবে নেতৃত্ব ও মানসিক দৃঢ়তায় তিনি ছিলেন অনন্য।
জাতীয় দলের দিক থেকে তাকালে সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। ব্রাজিল জাতীয় দলের নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে দলে জায়গা করে নিতে হলে নেইমারকে প্রমাণ করতে হবে নিজের ফিটনেস ও কার্যকারিতা। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। আগামী মার্চে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচ দুটিই হতে পারে নেইমারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘোরানো অধ্যায়।
সান্তোস আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি না দিলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক নাটকীয় ভিডিওতে নেইমারের চুক্তি নবায়নের বিষয়টি কার্যত নিশ্চিত করা হয়েছে। ভিডিওতে স্টেডিয়ামের বিশাল স্ক্রিনে দেখা যায়, তার চুক্তির মেয়াদ ১০ জুন ২০২৬ থেকে বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ করা হয়েছে—যা বিশ্বকাপ-পরবর্তী সময় পর্যন্ত ক্লাবে থাকার ইঙ্গিত দেয়।
নেইমারের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| বয়স | ৩৩ বছর |
| ক্লাব | সান্তোস |
| নতুন চুক্তির মেয়াদ | ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত |
| সাম্প্রতিক চোট | হাঁটুর মেনিস্কাস ইনজুরি |
| জাতীয় দলের কোচ | কার্লো আনচেলত্তি |
| আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ | ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ |
সব মিলিয়ে বলা যায়, নেইমারের সামনে সময়টা কঠিন হলেও সম্ভাবনাময়। যদি তিনি পুরোপুরি ফিট হয়ে নিজের চেনা ছন্দে ফিরতে পারেন, তবে বিশ্বকাপের দুয়ার খুলে যাওয়া মোটেও অসম্ভব নয়। ব্রাজিল সমর্থকদের চোখ এখন একটাই প্রশ্নে—পুরোনো সেই জাদুকর নেইমার কি আবার ফিরবেন?
