উরুগুয়ের জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে একটি রহস্যজনক প্রতীক হিসেবে পরিচিত। যদিও উরুগুয়ে মাত্র দুটি বিশ্বকাপ জয় করেছে—১৯৩০ ও ১৯৫০ সালে—তাদের জার্সিতে চারটি তারা রয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পিছনে ইতিহাস ও কৌশলের মিশ্রণ রয়েছে।
উরুগুয়ের দুটি বিশ্বকাপ জয় ছাড়াও, তাদের ফুটবল ইতিহাসে দুটি অলিম্পিক স্বর্ণপদক রয়েছে—১৯২৪ এবং ১৯২৮ সালে। ১৯২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকের আগে পেশাদার খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ ছিল। ১৯২৮ সালের আমস্টারডাম অলিম্পিকে নতুন নিয়ম চালু করা হয়, যেখানে ২৩ বছরের কম বয়সী খেলোয়াড়দের জন্য টুর্নামেন্ট সীমাবদ্ধ। উরুগুয়ে এই দুটি অলিম্পিক জয়ে ফিফার অনুমোদন প্রাপ্ত।
উরুগুয়ে ফুটবল ফেডারেশন (ইউএফই) জার্সিতে চারটি তারকা রাখার জন্য ইতিহাসকে ব্যবহার করেছে। তাদের কৌশল ছিল—এই চার তারা না শুধুমাত্র বিশ্বকাপ জয়কে, বরং দুটি অলিম্পিক স্বর্ণকেও প্রতিফলিত করে। ফিফার ২০১০ সালের নিয়ম অনুসারে কেবল বিশ্বকাপ জয়লব্ধ দলই তারকা রাখার যোগ্য। কিন্তু উরুগুয়ে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ফেডারেশনের লোগোর অংশ হিসেবে চারটি তারা রাখে।
২০২২ বিশ্বকাপের আগে এই বিষয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। জার্সি স্পন্সর পুমা চারটি তারা সরানোর পরামর্শ দেয়। ফিফার পক্ষ থেকেও নির্দেশ আসে। কিন্তু উরুগুয়ে ফেডারেশন স্পষ্ট করে জানায়, তাদের ইতিহাসের স্বীকৃতি রক্ষার জন্য তারা তা প্রত্যাখ্যান করবে। এছাড়াও, চার তারার বৈধতা প্রমাণের জন্য সব নথি প্রস্তুত রয়েছে।
উরুগুয়ের এই কৌশল ফুটবলপ্রেমীদের জন্য শিক্ষণীয়। এটি দেখায় কিভাবে ইতিহাস, ক্রীড়া নীতি এবং জাতীয় গর্ব মিলিয়ে একটি দেশের ফুটবল চেতনা প্রকাশ পেতে পারে।
