বিরামপুরে নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

দিনাজপুরের বিরামপুরে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায় জড়িত এক নারী ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তি মনির নামে পরিচিত হলেও স্থানীয়ভাবে “সাথী” নামে সুপরিচিত। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে বহু বছরের মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে এবং ইতোমধ্যেই ১০টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে শহরের স্টেশন এলাকা সংলগ্ন কেডিসি রোড থেকে বিশেষ নজরদারির মাধ্যমে তাকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় সাথীর হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধারকৃত মাদকের বিস্তারিত তথ্য নিম্নরূপ:

ক্রমিকমাদকপ্রকারপরিমাণমন্তব্য
ট্যাপেন্টাডল৫০ পিসকৌশলে ছোট প্যাকেটে বহন করা হয়েছিল
ইয়াবা১০ পিসঅব্যবহৃত ট্যাবলেট

পুলিশ জানিয়েছে, সাথী ওই এলাকার শহীদ মিয়ারের মেয়ে। দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে তার একটি কুখ্যাতি তৈরি হয়েছিল। স্থানীয়রা মনে করছেন, সাথী এলাকার মাদক চক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। তার গ্রেপ্তারের খবরের ফলে এলাকায় শোক ও উদ্বেগের মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

ওসি সাইফুল ইসলাম সরকার বলেন, “সাথীকে দীর্ঘদিনের অনুসন্ধান ও নজরদারির পর আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চলমান মামলা এবং উদ্ধারকৃত মাদকের ভিত্তিতে তাকে বুধবার দিনাজপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। আমরা মাদক নির্মূলের জন্য এই ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখব।”

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, অভিযান চলাকালীন স্থানীয় যুবক এবং মাদক সচেতন নাগরিকদের সহায়তাও নেওয়া হয়েছে। এই ধরনের অভিযান স্থানীয় প্রশাসনের জন্য কার্যকর দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। আশা করা হচ্ছে, ধাপে ধাপে মাদক চক্রের সক্রিয় সদস্যদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এলাকার মাদক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

মাদকবিরোধী এই ধরনের কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে যুব সমাজকে মাদক থেকে নিরাপদ রাখা। পুলিশ জানিয়েছে, বিরামপুরসহ আশেপাশের এলাকায় ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীদের চক্র ভাঙার চেষ্টা চালানো হবে।

এই অভিযানের মাধ্যমে পুলিশ শুধুমাত্র একটি কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারই করেনি, বরং স্থানীয় জনগণকে মাদকমুক্ত রাখতে তাদের অঙ্গীকারও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।