বিশ্ব সংগীতের জনপ্রিয়তম কে-পপ গ্রুপ বিটিএসের (BTS) প্রত্যাবর্তনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাদের কোটি কোটি ভক্ত। দীর্ঘ সামরিক বিরতি এবং ব্যক্তিগত ব্যস্ততা কাটিয়ে আগামী বছরের মার্চ মাসে একটি পূর্ণাঙ্গ অ্যালবামের মাধ্যমে বিটিএস তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে যাচ্ছে। গত রোববার এক বিশেষ লাইভস্ট্রিমে ব্যান্ডের সাত সদস্য নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের নতুন অ্যালবামের রেকর্ডিং কাজ ইতিমধ্যে সফলভাবে শেষ হয়েছে। পূর্ণ সদস্যসহ তাদের এই ফেরা পপ দুনিয়ায় এক নতুন উন্মাদনা সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিটিএসের সাত সদস্য—আরএম, জিন, জে-হোপ, জিমিন, ভি, জাংকুক ও সুগা—সবাই দক্ষিণ কোরিয়ার বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন। প্রশিক্ষণ থেকে ফেরার পরপরই তারা বিরতি না নিয়ে নতুন গান ও অ্যালবামের পরিকল্পনায় যুক্ত হন। যদিও গত জুন মাসেই সব সদস্যের সামরিক দায়িত্ব সমাপ্ত হয়েছিল, তবুও দীর্ঘ সময় তারা জনসম্মুখে খুব একটা সক্রিয় ছিলেন না। লাইভস্ট্রিমে সদস্যরা জানান, ভক্তদের সামনে একেবারে নতুন কিছু নিয়ে আসার প্রস্তুতিতেই তারা এই সময়টুকু ব্যয় করেছেন। দলনেতা আরএম জানিয়েছেন, তাদের মূল প্রতিষ্ঠান ‘হাইব’ (HYBE) খুব দ্রুতই বিটিএসের ফেরার দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে।
ভক্তদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে এর আগে ১৮ জুলাই ‘পারমিশন টু ড্যান্স অন স্টেজ-লাইভ’ শীর্ষক একটি অ্যালবাম প্রকাশ করা হয়। এতে বিটিএসের ২০২১-২২ সালের বিশ্ব সফরের ২২টি জনপ্রিয় গানের লাইভ সংস্করণ যুক্ত ছিল। তবে স্টুডিও অ্যালবামের আবেদন ভক্তদের কাছে সবসময়ই ভিন্ন। বিটিএসের ফেরার কারণে হাইবের অন্যান্য জনপ্রিয় ব্যান্ডের সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা দক্ষিণ কোরীয় মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে বিটিএসের বিশাল প্রভাবের প্রমাণ দেয়।
নিচে ২০২৬ সালের শুরুতে হাইবের প্রধান গ্রুপগুলোর কার্যক্রমের একটি সম্ভাব্য সময়সূচি দেওয়া হলো:
হাইব (HYBE) গ্রুপের প্রধান কামব্যাক সূচি ২০২৬
| ব্যান্ডের নাম | প্রত্যাবর্তনের সময় | মূল বিষয়বস্তু |
| বিটিএস (BTS) | মার্চ, ২০২৬ | বিরতির পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ স্টুডিও অ্যালবাম |
| এনহাইপেন (ENHYPEN) | জানুয়ারি, ২০২৬ | বিটিএসের কারণে সূচি দুই মাস এগিয়ে আনা হয়েছে |
| টুমরো বাই টুগেদার (TXT) | মার্চ, ২০২৬ | বিটিএসের কাছাকাছি সময়ে নতুন সংগীত |
| লাইভ অ্যালবাম | জুলাই (বিগত) | ‘পারমিশন টু ড্যান্স’ ট্যুরের ২২টি গান |
বিটিএসের প্রত্যাবর্তন ঘিরে দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ার বাজার এবং বিশ্ব সংগীত বাণিজ্যে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। সদস্যরা লাইভস্ট্রিমে ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন যে, আবার নিয়মিত কার্যক্রমে ফিরতে তারা নিজেরাও অধীর হয়ে আছেন। বিশেষ করে আরএম এবং জে-হোপের মতো সদস্যরা গান তৈরির পেছনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন।
আগামী মার্চ মাসটি কেবল বিটিএসের জন্য নয়, বরং পুরো কে-পপ বিশ্বের জন্যই একটি উৎসবের মাস হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ সামরিক প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত পরিপক্বতা তাদের নতুন অ্যালবামের সংগীতে কতটা ভিন্নতা আনে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ভক্তদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা যেন সার্থক হয়, সেই লক্ষ্যেই বিটিএস এবং হাইব তাদের চূড়ান্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
