বাংলাদেশে মাদকবিরোধী অভিযানে আরও একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে ১৪ কেজি গাঁজাসহ তৃতীয় লিঙ্গের এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ অভিযান দেশের মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সেনাবাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা ও কঠোর অবস্থানের আরেকটি প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তি হলেন কৌশিক চন্দ্র সরকার (২৫), যিনি তৃতীয় লিঙ্গের একজন সদস্য। তিনি দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানার নবায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং নিমাই চন্দ্র সরকারের সন্তান।
এই অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭ পদাতিক ডিভিশনের আওতাধীন ৬ পদাতিক ব্রিগেডের ৬২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘ সময় নজরদারি চালিয়ে নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। অভিযানের সময় কৌশিক চন্দ্র সরকারকে সন্দেহজনকভাবে চলাফেরা করতে দেখে তল্লাশি চালানো হলে তার কাছে থাকা একটি ব্রিফকেস থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১৪ কেজি গাঁজা, একটি মোবাইল ফোন, নগদ ১০ হাজার টাকা এবং একটি ব্রিফকেস। উদ্ধার করা আলামতগুলো প্রাথমিকভাবে মাদক পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয় বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনে করছে।
নিচের ছকে উদ্ধারকৃত আলামতের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো—
| উদ্ধারকৃত আলামত | পরিমাণ/সংখ্যা |
|---|---|
| গাঁজা | ১৪ কেজি |
| মোবাইল ফোন | ১টি |
| নগদ অর্থ | ১০,০০০ টাকা |
| ব্রিফকেস | ১টি |
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তারিক হাসান রাসেল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও জব্দকৃত মালামাল যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কৌশিক চন্দ্র সরকার একটি সংঘবদ্ধ মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা থেকে কুয়াকাটা রুটের বিভিন্ন এলাকায় গাঁজাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য সরবরাহ করে আসছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধারণা করছে, গ্রেপ্তারের মাধ্যমে চক্রটির আরও সদস্যদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে ৬২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়েজ আহমেদ বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দেশের যুবসমাজ ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এ ধরনের অপরাধ দমনে ভবিষ্যতেও নিয়মিত ও জোরালো অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এই অভিযানের ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
