বিপিএল নিলামে সাত ক্রিকেটার বাদ

বিপিএলের নিলাম সামনে রেখে ক্রিকেটাঙ্গনে হঠাৎই যে ঝড় উঠেছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সাতজন পরিচিত ক্রিকেটার। তাঁরা আক্ষেপ করে বলছেন—“আমাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ নেই, তবু বাদ দেওয়া হলো কেন?” অন্যদিকে বিসিবি বলছে—“প্রমাণ নয়, রেড ফ্ল্যাগ গ্রাহ্য করা হয়েছে।”

ঘটনার শুরু গত আসরের পর গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটির দীর্ঘ অনুসন্ধান থেকে। প্রায় আট মাস ধরে সাক্ষাৎকার, বিশ্লেষণ, তথ্য সংগ্রহ করে তারা জমা দেয় একটি বিশাল আকারের প্রতিবেদন। বিসিবি সভাপতি সেটি হাতে পান এবং দ্রুতই তদন্ত পাঠানো হয় ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের কাছে। অ্যালেক্স মার্শারের দল কিছু বিষয়কে “উদ্বেগজনক” হিসেবে উল্লেখ করে।

এই সুপারিশ হাতে পাওয়ার পরই গভর্নিং কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নেয়—যেসব খেলোয়াড়ের নাম প্রতিবেদনে রেড ফ্ল্যাগের আওতায় এসেছে, তাঁদের নিলামে ‘আমন্ত্রণ’ জানানো হবে না।
ইফতেখার রহমান সাংবাদিকদের জানান,
“আমরা দোষী বলছি না। কিন্তু ঝুঁকি নিলে লিগের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।”

গুঞ্জন ছিল, বিসিবি হয়তো তালিকা প্রকাশ করবে না। শেষ পর্যন্ত তা-ই হয়েছে। যদিও জানা যায়, বাদ পড়া সাতজন হলেন—এনামুল হক, মোসাদ্দেক হোসেন, আলাউদ্দিন বাবু, সানজামুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, নিহাদুজ্জামান ও শফিউল ইসলাম। তাঁদের কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন—“আমরা যদি অপরাধী না হই, তবে কেন এমন আচরণ?”

ইফতেখার রহমান অবশ্য যুক্তি দেন,
“নিলাম একটি আমন্ত্রণভিত্তিক প্রক্রিয়া। কাউকে নিলামে নিতে বাধ্য নই। বিদেশিরা ৫০০ জন আবেদন করেছিল, আমরা ২৬০ জন বাছাই করেছি। এখানেও একই নীতি।”

বিসিবি বলছে—এটি বিপিএলের ‘ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা’। কিন্তু ক্রিকেট মহলের প্রশ্ন—রেড ফ্ল্যাগ কি তদন্তের ভিত্তি, নাকি সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া আগাম সিদ্ধান্ত? আর যদি সন্দেহই হয়, তবে সেটাই কি যোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে?