বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) দারুণ ফর্মে থাকা পাকিস্তানি তারকারা দেশের ডাক পাওয়ার পরও মাঠে নিজের ছাপ রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের পারফরম্যান্সে ভর করে পাকিস্তান শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৬ উইকেটে বড় জয় তুলে নিয়েছে। এই সিরিজটি আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ সালের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পোশাকি মহড়ার মতো কাজ করছে।
পাকিস্তান ১২৯ রানের লক্ষ্য ২০ বল বাকি এবং ৬ উইকেট হাতে রেখে পূর্ণ করে। জয়ের মূল ভিত্তি তৈরি হয় পাওয়ারপ্লেতে। ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও সাইম আইয়ুব দারুণ শুরু এনে দলের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি গড়ে দেন। সাইম মাত্র ১৮ বল খেলে ২৪ রান করেন, যার মধ্যে রয়েছে তিনটি চার ও একটি ছক্কা। ফারহান তার চেয়ে দীর্ঘ ইনিংস খেলেন—৩৬ বল খেলে ৫১ রান, যার মধ্যে চারটি চার ও দুটি ছক্কা ছিল। দুজনেই বিপিএলে যথেষ্ট আলো ছড়িয়েছেন এবং সেই ফর্ম শ্রীলঙ্কাতেও ধরে রেখেছেন।
শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং আক্রমণ পাকিস্তানের বোলিংয়ে চাপে পড়ে। দলটি ১৯.২ ওভারে ১২৮ রানে অলআউট হয়। ওপেনার কামিল মিশ্রা শূন্য রানে আউট হন, যা ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে খেলা সালমান মির্জা‘র বলে ঘটে। এরপর ওয়াসিম তুলে নেন পাথুম নিশাঙ্কার উইকেট, যিনি ১২ বলে ১২ রান করেন। মাঝখানে জানিথ লিয়ানাগে ৩১ বলে ৪০ রান করে দলের সংগ্রামে হাল ধরেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আউট হন। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও অধিনায়ক দাসুন শানাকা যথাক্রমে ১৮ ও ১২ রান করেন।
পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে সালমান মির্জা ও আবরার তিনটি করে উইকেট নেন, আর শাদাব খান দুটি উইকেট নিয়েছেন। পাকিস্তান টস জিতে প্রথমে বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যা কার্যকর প্রমাণিত হয়।
নিচের টেবিলে ম্যাচের মূল তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| দলের নাম | রান | উইকেট | ওভার | প্রধান ব্যাটসম্যান | প্রধান বোলার |
|---|---|---|---|---|---|
| পাকিস্তান | ১৩২/৪ | ৬ | ১৮.২ | ফারহান (৫১), সাইম (২৪) | – |
| শ্রীলঙ্কা | ১২৮ | ১০ | ১৯.২ | লিয়ানাগে (৪০) | মির্জা (৩), আবরার (৩), শাদাব (২) |
এই ম্যাচটি পাকিস্তানের জন্য বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাস জোগানোর একটি বড় সুযোগ। তিন ম্যাচের সিরিজটি দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। পাকিস্তান টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ খেলবে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। গ্রুপ পর্ব ও সুপার এইটের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কাতেই অনুষ্ঠিত হবে। পাকিস্তান যদি সেমিফাইনাল বা ফাইনালে পৌঁছায়, সেই ম্যাচও শ্রীলঙ্কায় হবে।
