রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উচ্চশিক্ষা জীবনের শুরুতেই ঝরে পড়লেন এক মেধাবী প্রাণ। বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী বিনোদপুর এলাকার একটি ছাত্রীনিবাস থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী লামিসা নওরিন পুষ্পিতার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঝিনাইদহ জেলা থেকে এক বুক স্বপ্ন নিয়ে ক্যাম্পাসে আসা এই শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে সহপাঠী ও শিক্ষক মহলে গভীর শোক ও বিষাদ নেমে এসেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলের দিকে বিনোদপুরের ওই ছাত্রীনিবাসের একটি কক্ষের ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে সহপাঠীরা চিন্তিত হয়ে পড়েন। বারবার ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় তারা মেস কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। পরে খবর পেয়ে মতিহার থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় লামিসাকে ঝুলতে দেখা যায়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। মরদেহটি বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।” পুলিশ ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে এবং আত্মহত্যার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ বা মানসিক চাপ ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
একনজরে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য:
| বিষয়বস্তু | বিবরণ |
| শিক্ষার্থীর নাম | লামিসা নওরিন (পুষ্পিতা) |
| শিক্ষা প্রতিষ্ঠান | রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) |
| বিভাগ ও বর্ষ | ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি (১ম বর্ষ) |
| নিজ জেলা | ঝিনাইদহ |
| মরদেহ উদ্ধারের স্থান | বিনোদপুর সংলগ্ন ছাত্রীনিবাস (মেস) |
| আইনি পদক্ষেপ | ময়নাতদন্তের জন্য রামেক মর্গে প্রেরণ |
| সংশ্লিষ্ট থানা | মতিহার থানা, রাজশাহী |
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি জানার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিহতের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছে। তিনি বলেন, “একজন নবীন শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যু আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনার। আইনি সব প্রক্রিয়া শেষ করে আমরা দ্রুত মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার ব্যবস্থা করছি।”
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নতুন আসা শিক্ষার্থীদের জন্য এই ঘটনাটি বড় ধরণের ধাক্কা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। সহপাঠীদের মতে, লামিসা খুবই শান্ত স্বভাবের মেয়ে ছিলেন। তার এই চরম সিদ্ধান্তের পেছনে পারিবারিক কোনো সমস্যা নাকি অন্য কোনো বিষণ্ণতা কাজ করছিল, তা নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং এ ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে তারা সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করবেন।
