বিশ্ববাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে। প্রায় কোটি কোটি বাংলাদেশি প্রবাসী বিভিন্ন দেশে কর্মরত থাকেন এবং তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। প্রবাসীরা যে অর্থ পাঠান, তা দেশের মুদ্রা বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী দেশের মুদ্রা বাজারে বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার ক্রয় ও বিক্রয় হার প্রকাশ করা হলো।
বাংলাদেশে বিদেশি মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ব্যাংকগুলো নিয়মিতভাবে ক্রয়-বিক্রয় হার সমন্বয় করে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ডলার, ইউরো, পাউন্ড ও এশিয়ার অন্যান্য মুদ্রার হারে সামান্য ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। এই তথ্য ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বৈদেশিক লেনদেন, রেমিট্যান্স ও আমদানি-রপ্তানি চুক্তিতে এটি সরাসরি প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আজকের তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন মুদ্রার বিনিময় হার নিম্নরূপ:
| মুদ্রা | ক্রয় (টাকা) | বিক্রয় (টাকা) |
|---|---|---|
| ইউএস ডলার | ১২২.৩০ | ১২২.৩০ |
| ব্রিটিশ পাউন্ড | ১৬৪.৮৮ | ১৬৪.৯২ |
| ইউরো | ১৪৪.০৬ | ১৪৫.১০ |
| জাপানি ইয়েন | ০.৮০ | ০.৮০ |
| অস্ট্রেলিয়ান ডলার | ৮৬.৬২ | ৮৬.৬৩ |
| সিঙ্গাপুর ডলার | ৯৬.৪৯ | ৯৬.৫৮ |
| কানাডিয়ান ডলার | ৮৯.৩৬ | ৮৯.৪১ |
| ইন্ডিয়ান রুপি | ১.৩৪ | ১.৩৫ |
| সৌদি রিয়েল | ৩২.৫৮ | ৩২.৫০ |
বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায় যে, ইউএস ডলারের ক্রয় ও বিক্রয় হার অপরিবর্তিত রয়েছে, যা বাজারে স্থিতিশীলতার প্রতীক। অন্যদিকে, ইউরো এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের হারে সামান্য ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। এশিয়ার মুদ্রা যেমন জাপানি ইয়েন, ইন্ডিয়ান রুপি এবং সৌদি রিয়েলেও সূক্ষ্ম পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে, যা দৈনন্দিন ব্যবসায়িক লেনদেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মুদ্রার বিনিময় হার দেশের বাণিজ্য, রেমিট্যান্স এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। ব্যবসায়ীরা ও প্রবাসীরা প্রতিদিন এই হারের ওপর নজর রাখেন, যাতে তাদের অর্থায়ন ও লেনদেন সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে হারের সমন্বয় করে যাতে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং বৈদেশিক লেনদেনে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
অতএব, সচেতন প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের জন্য প্রতিদিনের মুদ্রার বিনিময় হার জানা অত্যন্ত জরুরি। এ অনুযায়ী তারা বিদেশি লেনদেন পরিকল্পনা করতে পারেন এবং দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হন।
