বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার হস্তান্তর এবং বিক্রয়মূল্য প্রত্যাবর্তন (Repatriation) প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও সহজ করেছে। এই উদ্যোগে মূল লক্ষ্য হলো বিদেশি বিনিয়োগের জন্য এক পূর্বানুমানযোগ্য, কার্যকর এবং নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে ইআইডি সার্কুলার নং ০১ জারি করে একটি নতুন মাস্টার সার্কুলার প্রকাশ করেছে, যা ২০১৮ ও ২০২০ সালের পূর্ববর্তী নির্দেশনাগুলো একত্রিত ও হালনাগাদ করেছে।
নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে বেসরকারি এবং পাবলিক লিমিটেড, কিন্তু শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, এমন কোম্পানিগুলোতে অ-নিবাসী বিনিয়োগকারীরা শেয়ার হস্তান্তর ও বিক্রয়মূল্য প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে পারবেন। নির্দেশনায় বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ, কার্যকর এবং পূর্বানুমানযোগ্য করা হয়েছে, পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়েছে।
নতুন সার্কুলারের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
| সংস্কার বিষয় | মূল সুবিধা | সীমা ও সময়সীমা |
|---|---|---|
| এডি ব্যাংকের ক্ষমতা বৃদ্ধি | পূর্বানুমোদন ছাড়াই লেনদেন সম্পন্ন | ১ কোটি টাকা পর্যন্ত স্বাধীন ঘোষণার ভিত্তিতে, ১০০ কোটি পর্যন্ত নির্ধারিত মূল্যায়ন অনুযায়ী |
| লেনদেন প্রক্রিয়াকরণ | দ্রুত অনুমোদন ও কার্যক্রম | শেয়ার হস্তান্তর ৪৫ দিনের মধ্যে, Repatriation ৫ কর্মদিবসে সম্পন্ন |
| মূল্যায়ন পদ্ধতি | নিট সম্পদমূল্য (NAV), বাজারমূল্য, ডিসকাউন্টেড ক্যাশ ফ্লো | নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী মানসম্মত মূল্যায়ন |
| অভ্যন্তরীণ কমিটি | অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে আবেদন ও মূল্যায়ন পর্যালোচনা | প্রতিটি এডি ব্যাংকে জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনার নেতৃত্বে কমিটি গঠন |
| প্রতিবেদন | লেনদেনের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা | ১৪ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল বাধ্যতামূলক |
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, এডি ব্যাংকগুলো এখন অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবে। ১ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের জন্য ক্রেতা ও বিক্রেতার যৌথ ঘোষণার ভিত্তিতে লেনদেন কার্যকর করা যাবে। ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হলে নির্ধারিত মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করে এডি ব্যাংক সরাসরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে।
অতীতে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে বিডা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘ক্যাপিটাল রিপ্যাট্রিয়েশন কমিটি’ গঠন করা হয়। বিডার নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান রচি’র নেতৃত্বে এই কমিটি ১৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে সংস্কার প্যাকেজটি চূড়ান্ত করেছে।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, “বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগ করতে পারলে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ শক্তিশালী হয়। অনুমোদনের জটিলতা কমানো, বিক্রয়লব্ধ অর্থ সহজে দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং লেনদেন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা—এই সবই বাংলাদেশের জন্য একটি আস্থার পরিবেশ গড়ে তুলছে।”
নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগ থেকে প্রস্থান এবং অর্থ প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া সহজতর হবে, যা দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় ও স্থিতিশীল করবে।
স্বাক্ষরিত,
প্রশান্ত কুমার মন্ডল
জনসংযোগ কর্মকর্তা
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
