বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এখন থেকে বিদেশি কোম্পানিকে ঋণ প্রদানের সময় বিদেশি ব্যাংক থেকে গ্যারান্টি নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই কাজ করতে পারবে। তবে এটি শুধুমাত্র সেই বিদেশি ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যাদের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি থেকে সন্তোষজনক রেটিং রয়েছে।
একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিদেশি ব্যাংক যারা গ্যারান্টর হিসেবে কাজ করবে তাদের Moody’s, S&P Global বা সমমানের অন্য কোনো আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি থেকে রেটিং থাকতে হবে। তিনি আরও বলেছেন, অনেক কোম্পানির পর্যাপ্ত জামানত না থাকায় তারা স্থানীয় ব্যাংকের কাছে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। সেই কারণে তারা বিদেশি ব্যাংককে গ্যারান্টর হিসেবে ব্যবহার করে।
সিনিয়র কর্মকর্তা আরও বলেন, সুবিধাটি স্থানীয় ও বিদেশি উভয় কোম্পানির জন্য প্রযোজ্য, তবে বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানিরাই সবচেয়ে বেশি সুবিধা পায়। এরা সাধারণত HSBC, JP Morgan Chase, Bank of America, Bank of China এবং Standard Chartered-এর মতো ব্যাংক থেকে গ্যারান্টি নেয়।
অন্য একজন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা উদাহরণ দিয়েছেন, ধরুন কোনো কোম্পানি Tk20 কোটি মূল্যের প্রকল্প পায় কিন্তু Tk2 কোটি ঋণের প্রয়োজন। ব্যাংক সাধারণত জামানত চায়। যেহেতু কোম্পানির স্থির ও অস্থির সম্পদ সীমিত, তাই বিদেশি ব্যাংক গ্যারান্টর হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারে। এটি কোম্পানির কার্যক্রম সহজ করে এবং ব্যাংকের ঝুঁকি কমায়।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, বিদেশি ব্যাংকের ব্যাংক গ্যারান্টি (BG) বা স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট (SBLC) অবশ্যই শর্তহীন, অপ্রত্যাহারযোগ্য এবং প্রথম চাহিদায় প্রদেয় হতে হবে। এছাড়া, এটি সেই বিদেশি ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের দ্বারা প্রদান করতে হবে যার রেটিং অন্তত ‘BB রেটিং গ্রেড ১–২’ সমমানের।
নির্দেশনার প্রধান শর্তাবলী:
| শর্তাবলী | বিস্তারিত |
|---|---|
| গ্যারান্টি ধরণ | শর্তহীন, অপ্রত্যাহারযোগ্য, প্রথম চাহিদায় প্রদেয় |
| প্রযোজ্য ব্যাংক | বিদেশি ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সহ |
| ঋণগ্রহীতার ব্যয় | কোনো কমিশন, ফি বা অন্যান্য অর্থনৈতিক সুবিধা প্রযোজ্য নয় |
| আইনগত নিরাপত্তা | আইন, বিবাদ সমাধান এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে |
| আর্থিক যাচাই | ঋণগ্রহীতার আর্থিক সক্ষমতা, নগদ প্রবাহ ও ক্রেডিট যোগ্যতা যাচাই |
লোন প্রদানের আগে ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে যে ঋণগ্রহীতার ব্যবসায়িক উন্নতি হচ্ছে, টার্নওভার বৃদ্ধি পাচ্ছে, লাভজনকতা এবং নগদ প্রবাহ সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া বিদেশি গ্যারান্টি প্রয়োগ বা ঋণ ডিফল্ট হলে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবিলম্বে অবহিত করতে হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সহজেই বাংলাদেশে কার্যক্রম চালাতে পারবে এবং স্থানীয় ব্যাংকগুলো ঝুঁকি হ্রাস করে ঋণ প্রদানে সক্ষম হবে। বিশেষ করে যে কোম্পানির স্থির ও অস্থির সম্পদ সীমিত, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর।
