বিড়াল হত্যায় প্রতিবেশীর ছয় মাস কারাদণ্ড

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় একটি পোষা বিড়ালকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিবেশী আকবর হোসেন শিবলুকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে তাকে অতিরিক্ত এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আকবর হোসেন শিবলু আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন জানান, আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা এবং ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হয়েছেন যে আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে নিষ্ঠুর আচরণের মাধ্যমে পোষা প্রাণীটিকে হত্যা করেছেন। সে কারণেই বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তাকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে মোহাম্মদপুরের মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার নামের একটি আবাসিক ভবনের নবম তলা থেকে মনসুর নামের এক বাসিন্দার পোষা বিড়ালটি হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা যায়, প্রতিবেশী আকবর হোসেন শিবলু বিড়ালটিকে ফুটবলের মতো জোরে লাথি মারছেন। লাথির আঘাতে প্রাণীটি মাটিতে পড়ে নিস্তেজ হয়ে গেলেও তিনি সেখানে থেমে থাকেননি; বরং পা দিয়ে চাপ দিয়ে বিড়ালটির মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

ঘটনাটি ভবনের এক বাসিন্দা প্রত্যক্ষ করেন এবং পরে বিষয়টি মালিক মনসুরকে জানান। এরপর ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয় এবং তা মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

পরবর্তীতে প্রাণী কল্যাণ সংগঠন ‘পিপলস ফর এনিমেল ওয়েলফেয়ার’-এর পক্ষে নাফিসা নওরীন চৌধুরী ২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলার আবেদন করেন। সেদিন আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ঘটনাটি তদন্তের জন্য মোহাম্মদপুর থানাকে নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে জানায়, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

এর ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই আদালত আকবর হোসেন শিবলুর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। মামলাটিতে মোট চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় এবং গত ২ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। এরপর চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি বাদী ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। প্রথমে ১৭ ফেব্রুয়ারি রায়ের দিন ধার্য করা হলেও পরে তা পিছিয়ে ১১ মার্চ নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

নিচে মামলার বিচারিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো তুলে ধরা হলো—

তারিখঘটনা
১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪মোহাম্মদপুরে পোষা বিড়াল হত্যার ঘটনা
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪আদালতে মামলার আবেদন ও তদন্তের নির্দেশ
১৪ জুলাই ২০২৪আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন
২ ডিসেম্বর ২০২৪সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব সমাপ্ত
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন
১১ মার্চ ২০২৫আদালতের রায় ঘোষণা

আইনজীবী ও প্রাণী অধিকারকর্মীদের মতে, এই রায় দেশে প্রাণী নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাদের মতে, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হলে সমাজে প্রাণীর প্রতি মানবিক আচরণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের নিষ্ঠুর ঘটনা কমে আসবে।