বিচারকের কক্ষে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা, এসআই আটক

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কক্ষে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগে শাহরিয়ার জালাল নামের এক সহকারী পুলিশ পরিদর্শক (এসআই)কে আটক করা হয়েছে। পরে বিভাগীয় মামলার শর্তে মুচলেকার মাধ্যমে তাকে পাথরঘাটা থানা পুলিশকে হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনা ঘটে সোমবার দুপুর ২টার দিকে। আদালতের প্রতিবেদনে জানা গেছে, অভিযুক্ত এসআই শাহরিয়ার জালাল পাথরঘাটা থানায় কর্মরত। তিনি এক আসামির জামিন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করতে গিয়ে বিচারকের খাস কামরায় ঢুকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযুক্ত জানান, আসামির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

পাথরঘাটার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. পনির শেখ নিজেকে বিব্রতবোধ করলে আদালতের এসআই, জিআরও এবং কর্মচারীদের উপস্থিতিতে শাহরিয়ার জালালকে আটক করা হয়।

পরবর্তী কার্যক্রমে, ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করা হয় পাথরঘাটা থানার ওসি এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদা-কে। জেলা পুলিশ সুপারের পরামর্শে ও আশ্বাসের ভিত্তিতে বিকেলে পাথরঘাটা থানার ওসি মংচেনলা-এর কাছে মুচলেকার মাধ্যমে অভিযুক্তকে হস্তান্তর করা হয়।

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলা বলেন,
“বিষয়টি বিচারকের অর্ডার শিট অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এটি সম্পূর্ণভাবে ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট এসআইয়ের বিষয়।”

নিচের টেবিলে ঘটনার মূল তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

বিষয়তথ্য
ঘটনা স্থানপাথরঘাটা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, বরগুনা
সময়সোমবার, দুপুর ২টা
অভিযুক্তশাহরিয়ার জালাল, এসআই, পাথরঘাটা থানা
অভিযোগআসামির জামিনে প্রভাব বিস্তার ও ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা
বিচারকমো. পনির শেখ, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
প্রাথমিক ব্যবস্থাআদালতে উপস্থিত পুলিশ ও কর্মচারীদের সহায়তায় আটক
পরবর্তী ব্যবস্থামুচলেকার মাধ্যমে পাথরঘাটা থানার কাছে হস্তান্তর
আইনি প্রক্রিয়াবিভাগীয় মামলা স্থগিত; বিচারকের নির্দেশে পরবর্তী ব্যবস্থা

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও আদালত অভিযুক্ত পুলিশের দায়িত্ব ও আচরণ পর্যালোচনা করবে। স্থানীয়রা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সতর্কতার প্রয়াস হিসেবে দেখছেন। আদালতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়াকড়ি করা হতে পারে যাতে ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম রোধ করা যায়।