বিক্ষোভকারীদের হাতে ধ্বংস রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ অফিসে

রাজশাহীতে এক রাতের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি ঘটেছে, যখন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবরে ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা বুলডোজার ব্যবহার করে মহানগর আওয়ামী লীগের অফিস গুঁড়িয়ে দেয়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুমারপাড়ায় শুরু হওয়া এই ঘটনায় কার্যালয়টি প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং ভোর চারটা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলতে থাকে।

রাজশাহীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিক্ষোভকারীদের মিছিল শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকে, যেমন: ‘আওয়ামী লীগের আস্তানা, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘হাদি ভাই মরল কেন, ইন্টেরিম জবাব দে’, এবং ‘রুখে দাও জনগণ, ভারতীয় আগ্রাসন’। তারা মূলত হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে এবং রাজনৈতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে এই কর্মসূচি পালন করে।

এর আগে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জিএস সালাউদ্দিন আম্মার ফেসবুক পোস্টে বিক্ষোভের নির্দেশ দেন। তিনি লিখেন, ‘রাজশাহীবাসী ভারতীয় আধিপত্যবাদ আর আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আবার জুলাই নামাতে হবে। গুঁড়িয়ে দিবো আওয়ামী দূর্গ। সবাই আলুপট্টি আওয়ামী অফিসের সামনে চলে আসেন এখনই।’ এই আহ্বান কার্যকর হয় এবং রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী জড়ো হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভিন্ন হল থেকে মিছিল নিয়ে আসে এবং বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করে। বুলডোজার চালানো হয় প্রধান কার্যালয়ের সামনে, যা দেখে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ ভয়ে স্তম্ভিত থাকে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায় এবং শহরে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।

বিক্ষোভের মাধ্যমে আন্দোলনকারীরা মূলত হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে চাপ সৃষ্টি করতে চেয়েছেন। তবে এই ধ্বংসযজ্ঞ প্রশাসনের নজরেও এসেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।